ইউনিসেফ থেকে হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, এমপি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, দেশে হামের (মিজেলস) সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থায় জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) থেকে এই টিকা সংগ্রহ করা হবে। আগামী এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে। খবর বাসস/বিডিনিউজের।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের মাধ্যমে কাজ চলছে। একইসঙ্গে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এদিন দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কঙবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামের রোগী শনাক্ত হয়। ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়। ওই সময় রাজধানীর বস্তি এলাকায় হামের রোগী বৃদ্ধি পেতে থাকে। গত শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় শয্যার চেয়ে রোগী বেশি। তাদের বড় অংশই হামের রোগী। ভাইরাসজনিত এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ কয়েক জেলায় শিশুদের মৃত্যর খবরও এসেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন, মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এরপর ভ্যাকসিন কোনো গভার্নমেন্ট দেয় নাই। তবে মন্ত্রীর দেওয়া এ তথ্য যে পুরোপুরি সঠিক নয়, সে তথ্য সোশাল মিডিয়ায় সামনে এনেছেন অনেক অভিভাবক। কেউ কেউ তাদের সন্তানের টিকা কার্ডের ছবিও শেয়ার করেছেন, যেখানে হামের টিকা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। সোমবারের ব্রিফিংয়ে রোববারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, আপনারা ভালো করে শুনুন, মিজেলস প্রতিরোধে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পেইন হয়। লাস্ট নাইট আমি কয়েকজন হেলথ ইন্সপেক্টরের সাথে কথা বলেছি, যারা ভ্যাকসিন দিচ্ছেন। দ্য থিং ইজ ২০১৮ সালে একটা ক্যাম্পেইন (প্রচারাভিযান) হয়েছিল। এই ক্যাম্পেইনটা আফটার ইচ ফোর ইয়ারস হয়।
কার জন্য হয়? যেই বেবিগুলোকে ধরেন ২০১৮ তে দেওয়ার পরেও যারা লেফট আউট রয়ে গিয়েছে বা যে বেবিগুলো পলায় গেছে ভয়ে দেয় নাই এই একটা শ্রেণি আছে। আরেকটা শ্রেণি হল যারা এরপরে নিউবর্ন। এদেরকে তো টিকা দিতে হবে। ২০১৮ এর পরে আর কোনো ক্যাম্পেইন হয় নাই। এইট ইয়ার্স। সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে মন্ত্রী বলেন, হ্যাভ বিন এবল টু রিভিউ দ্যা ডিটেইলস? বুঝতে পারছেন আপনারা নাকি ভাই? যে শিশুরা তখন হামের টিকার আওতায় আসেনি তারাই বর্তমানে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত হচ্ছে বলে তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এদিকে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, দেশের সমপ্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও ৪ লাখের মত শিশু ঠিকমতো সব টিকা পায়নি এবং ৭০ হাজার (১ দশমিক ৫ শতাংশ) শিশু একেবারেই টিকা পায়নি। শহর অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়ার হার বেশি, মাত্র ৭৯ শতাংশ পুরোপুরি টিকা পেয়েছে। ২ দশমিক ৪ শতাংশ এক ডোজ টিকাও পায়নি এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ টিকার সব ডোজ ঠিকমতন পায়নি, সেই তুলনায় গ্রামাঞ্চলগুলোতে ৮৫ শতাংশ শিশু টিকার সব ডোজ পেয়েছে।












