নিচু দিয়ে ওড়া ইরানের ড্রোন হামলা সামলাতে হিমশিম যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পেয়েছে ইরান, বৈঠক হতে পারে পাকিস্তান বা তুরস্কে: ইরানি কর্মকর্তা

| বৃহস্পতিবার , ২৬ মার্চ, ২০২৬ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, নিম্নউচ্চতার হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের তেমন বিনিয়োগ করেনি, যে সুযোগটি ইরান খুব সফলভাবেই কাজে লাগিয়েছে। ‘মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট’ আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা একথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের ‘রিইম্যাজিনিং ইউএস গ্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি’ প্রকল্পের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, ‘এই যুদ্ধের একটি অদ্ভুত বিষয় হল, যে জায়গাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভালো করার কথা, তারা সেখানেই ভালো করছে। অর্থাৎ, উচ্চ আকাশসীমায় ইরানের সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রথাগত লড়াইয়ে তারা সফল হচ্ছে। আর তারা হিমশিম খাচ্ছে সেই জায়গায়, যেখানে তারা পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি এবং বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়নি। সেটি হচ্ছে: আকাশ নিয়ন্ত্রণে নিম্নউচ্চতার হুমকি। ইরানের নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র হিমশিম খাচ্ছে।’ খবর বিডিনিউজের।

তবে তার এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি তাদের সব সক্ষমতা হারিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তেহরানের আকাশে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একে ‘ইতিহাসে নাম লেখানোর মতো বিজয়’ বলে বর্ণনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো কেলি গ্রিকোর কথায়, ইরান জানে তারা সরাসরি আকাশযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সমকক্ষ নয়। তার ইরান তাদের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে না বরং ভিন্ন পথ নিয়েছে। নিচু আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরান ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী যুদ্ধ’ (ওয়ার অব ডিসরাপশন) চালাচ্ছে। এই কাজটা তারা করছে বিশেষত ড্রোন দিয়ে। উদ্দেশ্য, উপসাগরীয় দেশগুলোর ব্যাপক ক্ষতি ও ভোগান্তি তৈরি করা।

ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলো নির্মাণে খরচ কম হলেও সেগুলো মোকাবেলা করতে লাখ লাখ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। গ্রিকো বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু নিচু দিয়ে ওড়া ইরানের ড্রোন শনাক্ত করতে তাদের ভিন্ন ধরনের সেন্সর ও রাডার দরকার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আলোচনার বিষয়ে প্রস্তাব ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। যুদ্ধ অবসান নিয়ে বৈঠক শুরু হলে তা হতে পারে পাকিস্তানে কিংবা তুরস্কেও। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে একথা জানিয়েছেন ইরানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

ইরানের এই করমকর্তার বক্তব্য থেকে তেহরান কূটনৈতিক প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারে এমন বিরল ইঙ্গিতই পাওয়া যচ্ছে। যদিও তেহরান প্রকাশ্যে কোনও আলোচনা চলার খবর অস্বীকার করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করবে না বলে জানিয়ে আসছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসংকট থেকে উত্তরণে অনেক রিফর্ম দরকার : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধ২০২৭ সাল থেকে এসএসসির বিষয় কমানোর চিন্তা