চবি ভিসি-প্রোভিসির পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ছাত্রদলের

চবি প্রতিনিধি | শুক্রবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন সিন্ডিকেট সভায় অবৈধ নিয়োগ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য, দুই উপ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। অবস্থান কর্মসূচি শেষে উপাচার্য ও উপ–উপাচার্যদ্বয়কে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন তারা। অবস্থান কর্মসূচির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে চাইলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাকে বাধা দেন। পরে তিনি প্রশাসনিক ভবনের অন্য একটি ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন।

দুপুর ১টার দিকে উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল উপ–উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তিনি বলেন, ‘তোমাদের যত দাবি আমি উপাচার্যের কাছে পৌঁছায়ে দেব।’ অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘শিক্ষালয়ে বৈষম্য, চলবে না চলবে না’, ‘প্রশাসনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘নিয়োগ বোর্ডে বৈষম্য, চলবে না চলবে না’, ‘অবিলম্বে প্রশাসনের, পদত্যাগ করতে হবে’ এমন নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমরা বৈষম্যমুক্ত একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু গত ১৫–১৬ মাসে প্রশাসন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। সমপ্রতি নিয়োগের নামে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসন এসব নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করবে, কিন্তু তারা তা করেনি। বরং কেউ কেউ বলেছে এগুলো নাকি তাদের দেখার বিষয় নয়। তাহলে তাদের দেখার বিষয় কী?’ তিনি আরও বলেন, গত দেড় বছরে নিয়োগের নামে দলীয়করণ ও এলাকাকরণ করা হয়েছে। যত অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

পাশাপাশি উপাচার্য, দুই উপ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে হবে। আজ (গতকাল) উপাচার্য ও উপ–উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) কেউই অফিস করেননি। কেন তারা অফিসে আসেননি এটা কি মনের দুর্বলতার কারণে? আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রোববার থেকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।’ চবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কাজ করছে না। তারা শুধু নিয়োগ নিয়েই ব্যস্ত। হাতে গোনা কিছু কাজ দেখিয়ে দায়সারা হচ্ছে। এই প্রশাসনের পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘উপ–উপাচার্যের মেয়ের চেয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল। বাবার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এমনটাই আমাদের ধারণা। কী প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।’

এর আগে গত বুধবার নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই সনদ পাস হলে ’৭১ মুছে যাবে না : আলী রীয়াজ
পরবর্তী নিবন্ধশিশুকন্যাকে নিয়ে খালের পানিতে মায়ের ঝাঁপ