হেমন্তের সৌন্দর্যে মুগ্ধ আমি

অনামিকা বড়ুয়া | শনিবার , ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ at ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

হেমন্ত ঋতু আমার সব সময়ের প্রিয়। কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাস নিয়ে হেমন্ত ঋতু। প্রকৃতিতে শীতের আগমনের মৃদু সৌরভ। সকালে হাল্কা একটা কুয়াশা। দুপুরের পর পড়ন্ত বেলার রোদের একটা মিষ্টি ওম। নতুন ধান ঘরে উঠানোর কাজে ব্যস্ত থাকে কৃষাণ কৃষাণীরা। আর ধান ঘরে উঠলেই পিঠে পায়েস খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় চলে নবান্ন উৎসব। গ্রাম বাংলায় নতুন এক আবহের সৃষ্টি হয়। নবান্ন উৎসবের সাথে মিশে আছে বাঙালিদের হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আর সংস্কৃতির নানা দিক। প্রাচীন কাল থেকেই বাঙালি জাতি ধর্ম বর্ণ উপেক্ষা করে নবান্নকে কেন্দ্র করে উৎসবে মেতে ওঠে। একে অন্যের মধ্যে তৈরি হয় এক সামাজিক সম্পর্ক। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ এই যেন সত্যি হৃদয়ের বন্ধনকে আরো গাঢ় করার উৎসব। হেমন্ত এলেই দিগন্তজোড়া ফসলের মাঠ ছেয়ে যায় হলুদ রঙে। এই শোভা দেখে কৃষকের মন আনন্দে নেচে ওঠে। নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দ। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। সোনালী ধানের প্রাচূর্য আর বাঙালি বিশেষ অংশ নবান্নকে ঘিরে অনেক কবিসাহিত্যিকের লেখায় উঠে এসেছে প্রকৃতির চিত্র। কবি জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায় লিখেছেনআবার আসিব ফিরে ধান সিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়/ মানুষ নয়হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে/ হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে/ কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল ছায়ায়। কবির কবিতার লাইনের মতোই নবান্নের চিরায়ত বাংলার রূপ। ধান ভাঙার গান ভেসে বেড়ায় বাতাসে, ঢেঁকির তালে মধুর হয় বাড়ির আঙিনা। তৈরি হয় নতুন চালের পিঠা, ক্ষীরপায়েসসহ নানা উপাদান। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে চলে খাওয়া দাওয়া ধূম। বর্তমানে নবান্ন উৎসব পালন খুব কমে গেছে। ঠিক মতো এর চর্চা না হলে নবান্ন উৎসব ও হতে পারে একটি বিলুপ্ত উৎসব।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহেমন্ত যেন প্রকৃতির উৎসব
পরবর্তী নিবন্ধকী হবে এতো ক্ষমতার বড়াই করে