বাজারে ভাল দাম ও খুব বেশি যত্ন না নিয়েও উচ্চ ফলন পাওয়া যায় সুপারিতে। যে কারণে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সুপারি চাষ করেই সীতাকুণ্ডের কৃষকরা বেশি লাভ করতে পারছেন। এতে পরিবর্তন আসছে তাদের ভাগ্যেও।
সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সুপার সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। পাহাড়ে ১০ একর এলাকা জুড়ে সুপারি বাগান করেছে কৃষকরা। সুপারি উৎপাদনে খরচ কম। একবার গাছ লাগালেই হলো। গাছের তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। অন্যান্য ফসলের চেয়ে অধিক লাভ। চাহিদা বেশি থাকায় প্রত্যাশিত দামও পাওয়ায় যায়। যে কারণে এলাকায় সুপারি চাষ বেড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সুপারি পাকতে শুরু করেছে। গাছ থেকে সুপারি সংগ্রহ করা হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে বেশ দাম পাওয়া যায়। প্রতিদিন চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে সুপারি নিয়ে কৃষকরা সীতাকুণ্ড মোহন্ত হাটে নিয়ে যায় বিক্রি করার জন্য। বিক্রেতারা দর–দাম করে কিনছেন। প্রতি পোন (৮০টি) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়। মৌসুমের শুরুতে সুপারির চাহিদা বেশি থাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সুপারি। সীতাকুণ্ড মোহন্তের হাটে বাজারের বিক্রেতারা জানান, তাজা সুপারির চাহিদা থাকায় দাম বেশি। সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে তারা বিক্রি করেন।
উপজেলা উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সঠিকভাবে চারা লাগালে ও যত্ন নিলে ছয় থেকে সাত বছরে সুপারির ফলন আসতে শুরু করে। তবে বেশি ফলন ধরে ১০ থেকে ১২ বছরের পর থেকে। সুপারি গাছ ২০ থেকে ২৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। একটি গাছে বছরে ৩ থেকে পাঁচটি ছড়া আসে। গাছে ফুল আসার পর ৯ থেকে ১০ মাস লেগে যায় ফলন পাকতে। প্রতি ছড়াতে ৫০ থেকে ১৫০টি পর্যন্ত সুপারি থাকে। আগস্ট থেকে সুপারি পাকতে শুরু করে। মার্চ পর্যন্ত সুপারি সংগ্রহ চলে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহ বলেন, সুপারি একটি অন্যতম বাণিজ্যিক ফল–ফসল। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ পাহাড়ে সুপারির ভালো ফলন হয়েছে। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি উৎপাদনে উপযোগী। অযত্ন অবহেলায় বেড়ে উঠলেও পরিবারের সচ্ছলতার পেছনে এর অবদান অনস্বীকার্য। সুপারি গাছ লাগিয়ে কেবল পারিবারিক চাহিদা পূরণ নয়। বাড়তি আয়ের জন্য করা হয়। সুপারি চাষ, পরিচর্যা, ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছে।