১৯৬৮ সালের দশ এপ্রিল ছয়দিনের অবিরাম বর্ষণে আমাদের চান্দগাঁও গ্রামটি প্লাবিত হয়ে গেলে পাশের গ্রামের একটি উঁচু ঘরে আশ্রয় নিয়ে আমরা রাত কাটালাম। পরদিন দুপুরে পানি একটু কমলেই ফিরে এলাম নিজ ঘরে। কোমর ডুবন্ত পানিতে তখনও পুরো অঞ্চলটি একাকার। কলাগাছের ভেলা বানিয়ে আমরা এ পাড়া ও পাড়া ঘুরছি। শহর থেকে অনেকে খবর নিতে এলেন, এলেন আমাদের মঈন মামা (মঈনুল আলম, তখন ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান) পত্রিকার কাজে এসে আমাদের এক নজর দেখে গেলেন। তারপরই নৌকায় চড়ে ঘরের সামনে হাজির হলেন নানা কবি ওহীদুল আলম, প্রকৃতি প্রেমী কবি আমাদের দুর্দশায় যত কাতর হলেন তার চেয়ে বেশি বিমোহিত হয়ে পড়লেন অথৈ জলের মাঝে অসংখ্য ঘর–বাড়ি ভেসে থাকার নান্দনিক দৃশ্য দেখে, তিনি মা বাবাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, প্রকৃতির খেয়ালের সাথে সমঝোতা করেই মানুষকে বাঁচতে হবে, কিছুক্ষণ বসে একই নৌকায় নানা ফিরে গেলেন শহরে। মা–বাবা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে ঘরটিকে বাসযোগ্য করার কাজে। রাতের অবস্থান নিরাপদ করার জন্য মা ঘরের চারধারে শুকনো মরিচ জ্বালিয়ে দিলেন। মরিচ পোড়া ঘ্রাণে দু–চারটি বিষধর সাপ কিলবিলিয়ে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে। আমরা আশঙ্কিত হলাম। সকলের হৃদপিণ্ড কাঁপতে লাগল। প্রায় প্রতিবছরই এখানে বন্যা হয় আর বন্যার সময় বন–জঙ্গলের বিষধর সাপগুলো আশ্রয় নেয় ঘরে। আমরা যখন সবাই দুশ্চিন্তায় নিমগ্ন তখন একটি নৌকো এসে থামল আমাদের দাওয়ায়, লম্বা আল খাল্লা পরিহিত হাঁটুর উপর পায়জামা বেঁধে মেজ নানা সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম ছুটে এসেছেন আমাদের দেখতে, চারদিকে তখনো পানি থৈ থৈ করছে। এ বাড়ি ও বাড়ি যেতেই ভেলা ভাসাতে হয়, মেজ নানাকে পেয়ে মা’র মনে সাহস এলো, মা মনে মনে ভাবছিলেন ফি বছর এ সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য শহরে চলে যাওয়াই শ্রেয়, কিন্তু বাবার সামর্থ্য সীমিত বলে মা’র সাহস হয় না বাবাকে বলতে, নানাকে একটু বলাতেই উপদেশ এলো প্রকৃতির খেয়ালের সাথে সমঝোতা করতে হবে, মেজ নানা বাস্তববাদী মানুষ সমস্যা উৎরিয়ে যাওয়ার প্রচন্ড ক্ষমতা আছে তাঁর। তিনি একটি চেয়ার নিয়ে বসলেন স্যাঁত স্যাঁতে মেঝের ওপর, মা’র কাছে শুনলেন ফি বছরের দুর্দশার কথা, মা জানতেন এ সমস্যার সমাধান হবে জেঠার হাতেই। মা ক্ষীণস্বরে বললেন শহরে যাওয়ার কথা, গভীর ধ্যানে নিমগ্ন হয়ে মেজ নানা হঠাৎ বললেন, এভাবে আর এখানে থাকা নয়, তোমরা শহরে চল, মা খুশিতে আটখানা, আমরা আনন্দে আত্মহারা কিন্তু বিমর্ষ হলেন বাবা, চান্দগাঁও বাবার পৈত্রিক নিবাস চাকরি করেন শহরে। পোস্টমাস্টারের যা বেতন তা দিয়ে সংসার চলে কোনরকম। শহরে এলেই বাড়তি খরচ অনেক। কিন্তু মেজ নানা যা বললেন তা গভীর চিন্তার ফসল, মানুষের সমস্যা সমাধান করে তিনি তৃপ্ত হন, মেজনানার প্রস্তাবে ‘না’ বলার সাহস ছিল না বাবার। বাবাও জানতেন শহরের বাড়তি খরচ মেটাতে মেজ নানা একটা কিছু করবেন।
আমরা এক মাসের মধ্যেই চলে এলাম শহরে কাজির দেউড়ি দ্বিতীয় গলির শেষ প্রান্তে সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের বিশাল দালানের পাশে দু–কামরার পাকা একতলা একটি ঘর বরাদ্দ হলো আমাদের জন্য। শহরের বাড়তি খরচ মেটাতে মেজ নানা পরদিনই বাবাকে চাকরি দিলেন তাঁর পত্রিকা ‘দৈনিক জমানা’য়। সারাদিন পোস্ট অফিসের চাকরি শেষে সন্ধ্যায় বাবাকে যেতে হতো জমানা অফিসে, পত্রিকায় চাকরি দিয়ে বাসা ভাড়ার অতিরিক্ত খরচটি মেজ নানা এভাবে পুষিয়ে দিলেন আমাদের। এছাড়া দেশব্যাপী ‘দৈনিক জমানা’ গ্রাহক ছিল অনেক, প্রতিদিন নাম ঠিকানা লিখে ডাকযোগে পাঠাবার জন্য একটা নির্ধারিত পারিশ্রমিক ছিল। মামা খালারা একাজটি করে লেখাপড়ার খরচ কিছুটা পোষাতেন, আমাদের শহরে আসার পর মেজ নানা এ কাজের ভারটি দিলেন মা’র উপর, মাস শেষে যে টাকা মা’র হাতে আসতো তাতেই পুষিয়ে যেত আমাদের খাতা পত্রের খরচ।
সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম এক অসাধারণ মানুষ হয়েও সাধারণ ছিলেন, তাঁর জীবন বাহুল্য বর্জিত, সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি আর হাঁটু সমান আলখাল্লা পরেই তৃপ্ত ছিলেন, প্রখর রৌদ্রের মাঝে মোটা কাপড়ের লম্বা আলখাল্লা পরে রাস্তার ডান পার্শ্ব দিয়ে অতি ধীরগতিতে হেঁটে চলতেন তিনি। তাঁর চলার একটা ছন্দ ছিল। কোন জরুরি কাজেও তাঁর গতি ক্ষিপ্র হতো না। তিনি বলতেন, রাস্তার ডান পার্শ্বে চললে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কম থাকে।
সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের সাথে গরিব–দুঃখী মানুষের সখ্যতা ছিল অত্যন্ত নিবিড়, পাড়ার অসহায়, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত মেয়েরা নানার বাসায় কাজ করে জীবন চালাত, পাড়ার সকলের কাছেই তিনি ছিলেন ‘সরবেষ্টর’ নানা (সরবেষ্টর মানে সাবরেজিস্টার)। আমরা দেখেছি ঈদের নামাজ শেষে মেজ নানা কখনো বাড়ি ফিরতেন না সরাসরি। গরিব প্রতিবেশিদের ঘরে ঘরে কুশল বিনিময় করতেন এবং সেমাই খেতেন। আমরা হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজে ফিরতাম এপাড়া ওপাড়ায়। তাঁকে ঈদের সালাম না জানিয়ে আমাদের বেড়ানোই শুরু হতো না, আমরা দেখেছি মেজ নানা হয়ত টুনটুনী’র (টুনটুনী, কাজের বুয়া, তার স্বামী অল্প বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে) ভাঙা চেয়ারে বসে সেমাই খাচ্ছেন নয়ত বৃদ্ধা পাখির মা’র কপাল পোড়ার কাহিনী শুনছেন। মেজ নানা ছিলেন এদের সবার আত্মীয়। তাই কর্মব্যস্ত সাংবাদিক মাহবুব উল আলমের কাছে দুঃখ বর্ণনা করে এরা ভারমুক্ত হতে চায়।
সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম ছিলেন জীবনশিল্পী। অত্যন্ত স্বল্পভাষী হলেও যা বলতেন তা ছিল জীবনঘনিষ্ঠ অথচ রসে ভরপুর। তিনি ছিলেন আলম পরিবারের পথ প্রদর্শক। মৌলভী বাবা আর স্বাপ্নিক বড়দার সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে তিনি একটি শক্তিশালী ভিত রচনা করেছিলেন পরিবারের জন্য। তাই মৌলভী বাবাও অনেক সময় পরামর্শ চাইতেন মেজ ছেলে মাহবুব থেকে। ১৯৭১ সালের কথা। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দু’নানার পরিবারের প্রায় সকল সদস্য প্রথমে আমাদের চান্দগাঁও বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ৩০ মার্চ চান্দগাঁও রেডিও স্টেশনে বোমা পড়ার পর সম্মিলিতভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম এ এলাকা ছাড়ার, নানা ওহীদুল আলম পরিবার নিয়ে যাত্রা করলেন মেজখালার শ্বশুরবাড়ি পটিয়ার কাঞ্চন নগরে (বর্তমান চন্দনাইশ)। আর মঈন মামা, সবিহমামা এবং মেজনানীসহ আমরা যাত্রা করলাম ফতেয়াবাদের উদ্দেশ্যে। অসীম সাহস নিয়ে বৃদ্ধ মাহবুব উল আলম রয়ে গেলেন কাজির দেউরি বাসায়। যুদ্ধ পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে। পুরো শহর দখল করে নিয়েছে হানাদাররা। পশ্চিমাদের অত্যাচার নিপিড়নের কথা স্মরণ করে মেজনানার বুকে একটা দুঃখবোধ জেগে উঠল পরিবারের জন্য। তিনি ছুটলেন পরিবারের সন্ধানে, আমরা যখন একদল শরণার্থী ফতেয়াবাদের নিরাপদ আশ্রয়ে বসে ভাবছি ভবিষ্যতের কথা হঠাৎ আমাদের মাঝে হাজির হলেন মেজ নানা। সুদূর কাজির দেউড়ি থেকে পায়ে হেঁটে তিনি ছুটে এসেছেন ফতেয়াবাদে, পরিবার পরিজনের জন্য তিনি এত ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন যে, হানাদার মেশিনগানের গুলি উপেক্ষা করে প্রথমে চান্দগাঁও, তারপর গ্রামের খাল–বিল দুর্গম পথ অতিক্রম করে পৌঁছে গেছেন ফতেয়াবাদ। পায়ে হেঁটে এত পথ পাড়ি একমাত্র এ বৃদ্ধের পক্ষেই সম্ভব হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক হওয়ার সুবাদে, ক্লান্ত শ্রান্ত রোদে শরীর বিছানায় এলিয়ে দিয়ে মেজনানা বর্ণনা করলেন তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা, কতো ঝুঁকি, মৃত্যুর কত পারোয়ানা উপেক্ষা করে তিনি এসেছেন এখানে কাজির দেউড়ি বাসা থেকে বেরিয়ে সার্সন রোডে আসতেই প্রথম পরীক্ষার মুখোমুখী হলেন তিনি। একদল পাকিস্তানি সৈন্য দু’জন পথচারীকে রাইফেলের বাট দিয়ে মারধর করার মুহূর্তে দেখা পেল তাঁর। আরবি মডেলের লম্বা আলখাল্লা পরিহিত একজন স্বাস্থ্যবান বৃদ্ধের সাক্ষাৎ পেয়ে তারা হাঁক দিলো ‘এয়া বুড্ডা ইধার আও’।
বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতায় আইয়ুব খানের গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত তীক্ষ্ণবুদ্ধিসম্পন্ন এ বৃদ্ধটি অনুভব করলেন ‘জীবন মৃত্যু এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।’ প্রচন্ড সাহসে এবং বাঙালি হওয়ার অহংকার নিয়ে তিনি এগিয়ে গেলেন হানাদারদের কাছে। উর্দুতে নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই একসময় আলখাল্লার পকেট থেকে বের করে দিলেন আইয়ুব খানের সাথে করমর্দনরত একটা ছবি, সৈন্যরা এতে তেমন সন্তুষ্ট হলো না। মেজ নানার পেটে রাইফেলের এক গুঁতো দিয়েই তারা গাড়ি চালালো সার্কিট হাউসের দিকে। মৃদু ব্যথা ধারণ করে তিনি ধীর পায়ে এসে পড়েছেন বহদ্দারহাটে। রেডিও স্টেশন তখন হানাদারদের দখলে তাছাড়া বিক্ষিপ্ত গোলাগুলির শব্দে তিনি বারবার গতি পরিবর্তন করে চলেছেন, কখনো খালের পাড়ের গাছপালার আড়ালে, কখনো ধানের জমির ভেতর দিয়ে চান্দগাঁও ইউনিয়ন বোর্ডের কাছাকাছি আসতেই একপ্রস্থ মেশিনগানের গুলি এসে তাঁর মাথার উপরের গাছগুলোর ডাল–পালা ভেদ করে চলে গেল, কিছুক্ষণ উপুড় হয়ে বসে থাকার পর ফের পথ চলতেই আবারও শব্দ শোনা গেল, অবশেষে বিশ্বযুদ্ধের ট্রেনিং কাজে লাগিয়ে পৌঁছে যান আমাদের বাড়ি, কিন্তু তখন জনশূন্য হয়ে গেছে এ অঞ্চল। আমাদের বাড়িতে কাউকে না পেয়ে মেজনানা পুনরায় পথচলা শুরু করলেন। গ্রামের চেনা পথ ধরে অবিরাম চলতে চলতেই একসময় পৌঁছে যান ফতেয়াবাদ। এত পথ চলার পর ক্লান্ত হয়েও তিনি বলেছিলেন আমাকে অস্ত্র দাও আমি যুদ্ধ করবো ঐ হানাদারদের বিরুদ্ধে। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনায় তিনি আত্মনিয়োগ করেছিলেন, দেশের এ প্রান্ত ও প্রান্তে গেছেন তথ্যের সন্ধানে। তাঁর জীবনের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রচনা ‘বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের ইতিবৃত্ত’ আমাদের দেশ ও জাতির জন্য এক মূল্যায়ন দলিল।
আমার বড় মামা মাহমুদুল আলম তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকাকালীন সময়ে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন, সে সময় তার পাকিস্তান বিরোধী মিছিল–সমাবেশে অংশ নেয়া ছবি আমি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে দেখেছি। কিন্তু যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেল তিনি সবার সাথে সপরিবারে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আমার বৃদ্ধ দাদী পুত্রবধূর পরিবারের অসংখ্য সদস্যকে উদারভাবে আপ্যায়ন করেছিলেন। এই শরণার্থীর একটি অংশ ফতেয়াবাদের দিকে চলে গেল, কবি ওহীদুল আলম তাঁর পরিবার, সাহিত্যিক আবুল ফজলের কন্যা মমতাজ লতিফ এবং শবনম খান শেরওয়ানীকে সাথে নিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের দিকে রওয়ানা হলেন। আমরা ভেবেছিলাম পটিয়ায় পরিবার–পরিজন রেখে মাহমুদ মামা ও মাসুদ মামা হয়ত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন। কারণ তাদের বন্ধুরা প্রায় সবাই ভারতে গিয়ে ট্রেনিং নিতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে সাহিত্যিক মাহাবুব উল আলমের কনিষ্ঠ পুত্র, সোলসের প্রতিষ্ঠাতা নবম শ্রেণির ছাত্র সাজেদ উল আলম এবং সাংবাদিক সাইফুল আলমের জ্যেষ্ঠপুত্র দশম শ্রেণির ছাত্র শাহেদ উল আলম দেশপ্রেমের টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে রাতের অন্ধকারে ভারতে ছুটে গিয়েছিলেন। সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম তাঁর ছেলে এবং নাতির মুক্তিযোদ্ধা হওয়াটা নিয়ে বেশ গৌরবান্বিত হয়েছিলেন। পরে তিনি আমাকে বলেছিলেন ‘চাচা–ভাইপো’ সত্যিকার দেশপ্রেমিক তরুণ। যাদের দেশপ্রেম নেই তারা কখনো দেশকে ভালোবাসবে না, দেশের কল্যাণ চাইবে না। শুধু নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নানা ছলচাতুরী করে ধন–সম্পদের মালিক হতে চাইবে। আজ এত বছর পর তাঁর কথা বার বার মনে পড়ছে। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর আজ দেখছি চারিদিকে লুটপাটের আসর বসেছে। শিক্ষিত মানুষগুলো যে যার মতো করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নানা কৌশলে ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি পিষ্ট হচ্ছে নিত্যদিনের খরচ মেটাতে। কবি–সাহিত্যিকও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে তেমন উচ্চবাচ্য করছেন না। তাঁদের হাত দিয়ে সাহিত্যিক মাহবুব উল আলমের ‘মফিজন’র মতো অমর সৃষ্টি রচিত হচ্ছে না। সুশিক্ষিত ‘ডক্টর’ ধারীরা সমাজের অভিভাবক না হওয়াটা দুঃখজনক। এক্ষেত্রে ‘ডক্টর’ না হয়েও সাহিত্যিক মাহবুব উল আলম সমাজের বাতিঘর হয়ে ওঠেছিলেন।
লেখক : সম্পাদক, দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চ











