চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ সহজতর করতে ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ বিকল্প সড়কের রূপরেখা চূড়ান্ত করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সড়কটি কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক থেকে আনোয়ারা সদর, বরকল হয়ে চন্দনাইশ কলেজ গেটে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সাথে যুক্ত হবে। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫ কিলোমিটার কমার পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প সম্ভাবনা বেগবান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া সড়কটি চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে মাতারবাড়ি পাওয়ার হাব, মহেশখালী গভীর সমুদ্র বন্দর ও টেকনাফ স্থল বন্দরের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে কর্ণফুলী টানেল ও ছয় লেনের সংযোগ সড়কের সাথে কক্সবাজারের সরাসরি সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
সওজ সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত সড়কটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিকল্প সড়ক হিসেবে পরিচিতি পাবে। এটি চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া থেকে চন্দনাইশ সদর, বরকল সেতু, আনোয়ারা সদর হয়ে আনোয়ারা কালাবিবিরদীঘি মোড়ে এসে ছয়লেনের টানেল সংযোগ সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। বিকল্প এই সড়কটি হবে দুই লেনের। তবে বর্তমানে এই সড়কের প্রশস্থতা মাত্র ১৮ ফুট। গাড়ির চাপের কথা বিবেচনায় নিয়ে এর প্রশস্থতা বাড়ানো হবে ৩৪ ফুট। সড়কের দৈর্ঘ্য হবে ১৭ কিলোমিটার। সওজের ছয় লেন সড়কের প্রকল্প কর্মকর্তা প্রকৌশলী সুমন সিংহ আজাদীকে জানান, প্রস্তাবিত সড়কের নানাদিক যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয় ও কাজ শুরুর সময় নির্ধারণ হয়নি। সবকিছু হচ্ছে টানেল মেগা প্রকল্পের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে। প্রস্তাবিত সড়কটি বাস্তবায়নে কেবলমাত্র সরকারি জায়গার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে জানিয়ে সওজের এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আপাতত নতুন করে অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না।
জানা যায়, বিকল্প সড়ক বাস্তবায়নে আনোয়ারা-চন্দনাইশ সংযোগ সড়কের বরকল সেতুর কাজ প্রায় শেষ। চানখালী খালের ওপর ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ের এই সেতুতে শিগগিরই যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি এই সেতু উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে টানেলের সম্ভাব্য উদ্বোধনকে মাথায় রেখে শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে কালাবিবির দীঘি পর্যন্ত সংযোগ সড়কের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সওজ কর্তৃপক্ষ যেকোনো উপায়ে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ছয় লেন সড়কের চার লেন রাস্তা পুরোদমে চালু করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে। তবে চাতরী চৌমুহনীসহ সড়কের তিনটি স্পটে উড়াল সেতুর কাজ প্রস্তাবনায় এলেও তা এখনই হচ্ছে না। পরবর্তীতে আলাদা প্রকল্পের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন হবে বলে জানা গেছে।
এদিকে চাতরী চৌমুহনী বাজারের পর টানেল সড়ক ও ছয় লেন সড়কের সংযোগ স্থলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সড়কটি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সওজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলছে সে রকম কোনো আশংকা নেই। সংযোগ সড়কের টার্নিং পয়েন্টে ঝুঁকি এড়াতে ইউটার্ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুমন সিংহ।
কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী আজাদীকে বলেন, টানেল হয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার বিকল্প সড়ক বাস্তবায়ন হলে চন্দনাইশ ও বাঁশখালী দুই সড়ক হয়েই কক্সবাজার যাওয়া যাবে। বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অঞ্চলিক প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব আলী বলেন, টানেলের মাধ্যমে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্য দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করছে। কক্সবাজার পর্যন্ত বিকল্প সড়কটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিশাল শিল্পজোন তৈরি হবে।
সেতু সচিবের টানেল পরিদর্শন : এদিকে গতকাল শনিবার বঙ্গবন্ধু টানেল হয়ে সংযোগ সড়ক, ক্রসিং ওয়াই জংশন থেকে কালাবিবির দীঘি মোড় ছয় লেন সড়কের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন চিফ ইঞ্জিনিয়ার মনির হোসেন পাঠান, কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। শনিবার বিকেলে সেতু সচিব ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধু টানেলকে ঘিরে নেয়া সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণে ভূমিমন্ত্রীর সাথে সমন্বয় করার কথা বলেন।












