সামপ্রতিককালে পত্রিকার পাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধির প্রবণতা আমাদের চিন্তিত করে তুলেছে। প্রতিদিন পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু যোগাযোগ মাধ্যম এ ব্যাপারে যতই সরব ঠিক তার উল্টো চিত্র পাওয়া যায় রাষ্ট্রতন্ত্র যারা পরিচালনা করছে তাদের কাছ থেকে। প্রতিদিন আমরা দেখছি নারী ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে বাস ট্রেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর তাকে হত্যাও করা হচ্ছে। এসব ঘটনা পরও সুষ্ঠু ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করা যায় না। বিচারহীন সংস্কৃতি আমাদের কুরে কুরে খাচ্ছে। নাজনীন ধর্ষণের মামলা রাই পেতেও তার প্রভাবশালী ধনাঢ্য পরিবারকে এক যুগেরও বেশী অপেক্ষা করতে হয়েছে। সেখানে প্রত্যেক অসহায় ও সাধারণ নারী সুষ্ঠু বিচার পাওয়ার আশা করা যে যাচ্ছে না তা বোঝা যাচ্ছে। আমরা উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছি, আমরা উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছি, উন্নয়নের জোয়ারে ভাসতে-ভাসতে আমাদের নারীরা নির্যাতনের মহাসমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে একের পর এক এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেই চলেছে। আজ স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে আমি নাজনীন, তনু, নুসরাত ও ফেলানীদের কথা বলছি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অফিস কক্ষ, ঘর থেকে রাস্তা কোথাও নিরাপদ নয় আজ নারীরা। নয় মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী নারী কেউ নিরাপদ নয় আজ। বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে সামাজিক ভাবে অগ্রগতিতে নারী বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের ভেতর নারীর অবস্থা তেমন পরিবর্তন হয়নি এখনো। দেশের বিবাহিত নারীদের ৯৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোন না কোন সময়ে কোনো-না-কোনো নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। স্বামীর মাধ্যমেই শারীরিক, নির্যাতন মানসিক, নির্যাতন ও অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয় বেশিরভাগ নারী। আমারদের দেশের বিচারহীনতার সহিংসতার সঙ্গে রাজনৈতিক পেশী শক্তির সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সেই জাহেলিয়াত যুগ থেকে আজ পর্যন্ত, সমুদ্রের তলদেশ থেকে আকাশ পর্যন্ত বিজয় হলেও আজও মুক্তি পায়নি নারীরা। সমাজের সর্বক্ষেত্রে সর্বত্র নারীরা আজ নির্যাতিত। আমি যৌতুকের বলি হওয়া সদ্য মেহেদিতে রাঙানো হাত জোড়ার কথা বলছি। আমি ডাস্টবিনের পরে থাকা নবজাতক নিষ্পাপ শিশুর করুণ কান্নার কথা বলছি, আমি প্রায় প্রতিরাতে শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বন্ধ ঘরে উচ্চবিত্ত স্বামী দ্বারা অসহায় স্ত্রী অত্যাচারের করুণ কাহিনীর কথা বলছি, আমি নয় মাসের শিশু কন্যাকে আপন চাচা দ্বারা পাশবিক নির্যাতনের কথা শুনে শিউরে উঠেছি, প্রেমিক কর্তৃক -প্রেমিকাকে অপদস্ত করার কথা খবরের কাগজে পড়েছি। আমি নারী অধিকার রক্ষার নামে নারী নির্যাতনের অহরহ ঘটনা দেখেছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও আমরা নির্যাতিত হচ্ছে।












