টেকনাফে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে অপহৃত পিতা ও পুত্র। গতকাল শনিবার দুপুরে তারা ছাড় পান। এরা হচ্ছেন উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকার মৃত উলা মিয়ার ছেলে নজির আহমদ ও তার ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন। এ দিকে গতকাল সকালে হ্নীলা মরিচ্যাঘোনা এলাকার একটি পেয়ারা বাগান থেকে স্থানীয় মৃত আবদুল গফুরের ছেলে মোহাম্মদ শফিক (৩০) নামে আরেক যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণকারীরা তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে নিশ্চিত করেন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী। এর আগে অপহৃত ৫ জনের মধ্যে শাহাজাহান, আবু বক্কর ও মেহেদী হাসান ৩ জনকে ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের পানখালী এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ওই ৫ জন ভোরে ধান ক্ষেতে কাজ করতে যান। এ সময় ৭-১০ জন সেখান থেকে ৫ জনকে অপহরণ করে। অপহরণকারীরা ৫ জনের প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে।
শাহাজাহানের বাবা আবুল মঞ্জুর বলেন, আমার ছেলে শাহাজাহান পাহাড়ের পাদদেশে ধান ক্ষেত পাহারা দিতে গেলে সশস্ত্র অপহরণকারীরা তাকে সহ ৫ জনকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে।
এ দিকে শনিবার দুপুরে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসা নজির আহমদ ও ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন জানান, তাদেরকে বেশ মারধর করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। সুস্থ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, তার এলাকার কৃষকদের ক্ষেত-খামার রক্ষণাবেক্ষণের কাজে গহীন পাহাড়ে যেতে হয়। ধান ক্ষেত থেকে ৫ কৃষককে অপহরণ করা হয়েছে। ৩ জন আহতাবস্থায় ও দুই জন ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। তবে আজকে (গতকাল শনিবার) আবার আরেকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে অপহরণকারীরা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। এর পর পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ভাবে সকলে ফিরে এসেছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানান তিনি।












