৫ বছর ধরে অচল, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

আনারস চিপস কারখানা

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি | শনিবার , ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা আনারস চাষের জন্য সুপরিচিত। উপজেলার উঁচু–নিচু পাহাড়ে সারা বছরই নানা জাতের আনারস চাষ হয়। ফলন ভালো হলেও বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় অনেক সময় কম দামে আনারস বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা। বিশেষ করে আকারে ছোট আনারসের একটি অংশ বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যায়। এ অবস্থায় চাষিদের জন্য সম্ভাবনার একটি জায়গা হতে পারতো নানিয়ারচর হর্টিকালচার সেন্টারের ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের আনারসের চিপস তৈরির কারখানাটি। প্রায় ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কারখানাটি পাঁচ বছর ধরে অচল পড়ে আছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ধুলো ও মরিচা পড়ে নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি। ভবনের ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেঝে ও অবকাঠামোও।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা যায়, বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নানিয়ারচর হর্টিকালচার সেন্টারে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাটি নির্মাণ করা হয় ২০২০ সালে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কয়েক দফা পরীক্ষামূলকভাবে আনারস থেকে চিপস উৎপাদন করা হয়। পরে ২০২১ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে বন্ধ হয়ে যায় কারখানাটি। এরপর আর চালু হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে নানিয়ারচর ডাকবাংলো এলাকার হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের চিপস তৈরির কারখানাটি তালাবদ্ধ। ভেতরে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতে ধুলোর আস্তরণ পড়েছে। কোথাও কোথাও মরিচা ধরেছে। ছাদ ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে মেঝের প্লাস্টার উঠে গেছে। কয়েকটি যন্ত্রের বৈদ্যুতিক তারও ঝুলে রয়েছে।

উপজেলার বগাছড়ি এলাকার আনারস চাষি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, কারখানাটি তৈরি করা হলেও আমাদের কোনো কাজে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বড় আকারের আনারস কিনে নিয়ে গেলেও ছোট আনারস নিতে চান না। ফলে সেগুলো পচে নষ্ট হয়। কারখানাটি চালু থাকলে কম দামে হলেও এসব আনারস সেখানে বিক্রি করতে পারতাম। আমরা চাই কারখানাটি দ্রুত চালু করা হোক। এতে আমরা যেমন উপকৃত হব, তেমনি এলাকার বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। আরেক চাষি মো. হানিফ বলেন, কারখানাটি চালু হলে আনারস নষ্ট হওয়ার পরিমাণ কমবে। চাষিরা উৎপাদিত আনারসের দাম পাবেন। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

নানিয়ারচর হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. জোবায়দুর রহমান ভাসানী বলেন, কারখানাটি স্থাপনের পর ২০২০ সালে কয়েক দফা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। কিন্তু দক্ষ জনবল ও কারিগরি প্রশিক্ষণের অভাবে পরে আর চালু করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কারখানাটি এখন অনেকটাই ধ্বংসের দিকে। টিন ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে মেঝে নষ্ট হচ্ছে। যন্ত্রপাতিতেও মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানাটি পরিদর্শন করেছেন। সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগের মাধ্যমে এটি চালু করা যায় কি–না; সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে।

হর্টিকালচার সেন্টার রাঙামাটির উপপরিচালক মো. মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। তবে আমি যতটুকু জানি ২০২০ সালের দিকে কারখানাটি কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। পরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং দক্ষ জনবলের অভাবে এটি বন্ধ হয়ে যায়। আমি যোগদান করার পরে কারখানাটি পরিদর্শন করে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সেক্টরের মাধ্যমে কথা বলে কিভাবে এটি কার্যকর করা যায় সে বিষয়ে চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তা আমাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগির কারখানাটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হর্টিকালচার উইংয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কারখানাটি স্থাপন করা হয়েছিল। প্রকল্পটি ২০১৫ সালে শুরু হয়ে ২০২১ সালের জুনে শেষ হয়। যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নির্মাণসহ কারখানাটিতে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর কয়েকবার পরীক্ষামূলকভাবে কারখানাটি চালু করা হয়েছিল। পরে কারিগর ও দক্ষ জনবলের অভাব এবং প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি। এখন যদি সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারখানাটি নতুন করে চালু করা সম্ভব হলে স্থানীয় আনারস চাষি ও এলাকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জে এক হাজার ২৪০ জন গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধদুর্গোৎসব শুরু, মুখর পূজামণ্ডপ