১৯৭৩ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয়ে জনগণের পাশে থাকার যাত্রা শুরু হয়েছিল। যে যাত্রার ৫৩ বছর পেরিয়ে বয়স এখন ৮০ ছুঁইছুঁই। তাও জনগণের আস্থা ও ভালবাসা একটুও কমেনি। এবারও জাতীয় সংসদে চতুর্থবারের মতো সন্দ্বীপের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মোস্তফা কামাল পাশাকে বেছে নিয়েছেন দ্বীপের বাসিন্দারা। সন্দ্বীপে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় ও দলের নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলিত রাখার যোগ্যতাই এ জনপদের বাসিন্দাদের কাছে নির্ভরতা প্রতীক হিসাবে নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। রাজনীতির ময়দানে বয়স কোনো বিষয় নয়, ভোটারদের আস্থা ও বিশ্বাসে সফলতা বার বার ধরা দেয়। এই কথার জীবন্ত উদাহরণ চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিক আবারও প্রমাণ করলেন, মানুষের ভালোবাসা ও আস্থাই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি। ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ২০০৮ সালের একতরফা নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। তখন সারাদেশে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয় হয়েছিল। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজের অবস্থান ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে আনা তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক দক্ষতারই প্রমাণ। রাজনীতিতে তাঁর ভিত্তি স্থানীয় পর্যায় থেকে। ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। তার বাবা ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী। সন্দ্বীপের একমাত্র সরকারি কলেজ হাজী এ.বি সরকারি কলেজ ও হাজী এ.বি হাই স্কুল তার পিতা আবদুল বাতেন সওদাগরের একক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক উন্নয়নের যে বীজ তিনি পরিবার থেকে পেয়েছিলেন, তা পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে তার রাজনৈতিক দর্শনে প্রতিফলিত হয়েছে। রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল।
চারজন কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের হেভিওয়েট প্রার্থীকে বাদ দিয়ে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তি ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে এগিয়ে রাখে। তার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন প্রদান করে দল। তার প্রতি দলের আস্থার জবাবও দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মেধা ও প্রজ্ঞায় ২০১৪ সালে হারানো এ আসনটি বিএনপিকে পুনরায় উপহার দিয়েছেন তিনি প্রায় ৩৩ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সাধারণ ভোটাররা বিচ্ছিন্ন জনপদে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে তার ওপর নির্ভর করেছেন বেশি। স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্য, তিনি (কামাল পাশা) শুধু নির্দিষ্ট দলের নেতা নন, দ্বীপবাসীর আপনজন। রাজনৈতিক–সামাজিক অস্থিরতায় সুবাতাস ফিরে আনতে তার বিকল্প প্রার্থী কেউ ছিলেন না। নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিতকরনের আশায় আবারও তাঁকে নির্বাচিত করেছে জনগণ। এদিকে নির্বাচিত হয়ে শপথ নেয়ার পর মোস্তফা কামাল পাশা তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আয়োজন করেছেন মতবিনিময় সভার। আধুনিক ও নিরাপদ সন্দ্বীপ গড়তে সকলকে নিস্বার্থভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।












