স্পিকার হলেন হাফিজ উদ্দিন, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

| শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২৬ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

 

ত্রয়োদশ সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভোলা৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার হিসেবে তার সঙ্গী হচ্ছেন নেত্রকোণা১ আসনে থেকে সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা তাদের নির্বাচিত করেন।

সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বর্তমান বিএনপি সরকারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য ২০০১২০০৬ মেয়াদে বিএনপিজামায়াত জোট সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। আর বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল বিএনপির বর্তমান সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রবীণ সাংসদ খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতি করেন। নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্পিকার পদে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন। হুইপ রাকিবুল ইসলাম ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। স্পিকার হিসেবে অন্য কোনো মনোনয়ন ছিল না। পরে কণ্ঠভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন। এরপর ডেপুটি স্পিকার পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন। ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। এরপর ৩০ মিনিটের জন্য সংসদ মুলতবি করা হয়। এ সময় সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপ্রতি প্রথমে স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদকে এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কায়সার কামালকে শপথ বাক্য পাঠ করান।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাজনীতিতে নাম লেখানোর আগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৭১ সালে ছিলেন যশোর সেনানিবাসে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। সে সময় নিজের ব্যাটালিয়নের সৈনিকদের নিয়ে তিনি বিদ্রোহ করেন এবং যশোর সেনানিবাস মুক্ত করতে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ‘জেড ফোর্স’এর অধীনে ব্রাভো কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে কামালপুর ও ধলাই বিওপি আক্রমণে বীরত্বের পরিচয় দেন। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য স্বাধীনতার পর তিনি ‘বীর বিক্রম’ খেতাবে ভূষিত হন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ ১৯৪৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ডা. আজহার উদ্দিন আহমদ পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন। মা করিমুন নেছা বেগম ছিলেন গৃহিণী।

হাফিজ উদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। তার স্ত্রী দিলারা হাফিজ শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। তাদের পরিবারে দুই পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। ১৯৮৬ সালে ভোলা৩ আসনে জাতীয় পার্টির টিকেটে প্রথমবারে মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ১৯৮৮ সালেও নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ওই বছরের দুই নির্বাচনেই জয় পান। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে চারদলীয় জোট সরকারের পানি সম্পদমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন হাফিজ উদ্দিন। অবশ্য তিনি খালেদা জিয়ার ১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।

একসময় ফুটবলার হিসেবেও পরিচিতি ছিল হাফিজ উদ্দিন আহমদের। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে পাকিস্তান জাতীয় দলের হয়ে তিনি ইরান, তুরস্ক ও বার্মা সফর করন। ১৯৭০ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত আরসিডি প্রতিযোগিতায় তিনি জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কায়সার কামাল বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এবারই প্রথম নেত্রকোণা(কলমাকান্দাদুর্গাপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। প্রথমবারই পেয়েছেন ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব।

কায়সার কামাল লন্ডনের দ্য অনারেবল সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টারঅ্যাটল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওলভারহ্যাম্পটন থেকে এলএলবি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করেন।

যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনি প্যানেলের অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি দলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউট
পরবর্তী নিবন্ধএনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি বৈধ, আপিল খারিজ