ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে সরকারি দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা। গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সংসদীয় দল সিদ্ধান্ত দিয়েছি, মাননীয় সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার মনোনয়ন নির্ধারিত করবেন। এই পদে কে হবেন তা আগামীকালকে (আজ) আপনারা জানতে পারবেন। খবর বিডিনিউজের।
সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে এসে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের সভায় সংসদ নেতা আজকে একটা দিকনির্দেশমূলক বক্তব্য রেখেছেন। সেটা হচ্ছে, সংসদে আমরা কেমন আচরণ করব এবং আমাদের কার্যক্রম কি হবে, সে বিষয়ে তিনি একটা কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আমাদের যেহেতু পুরনো স্পিকার নাই, ডেপুটি স্পিকার নাই। আমরা সংসদে একটা খালি চেয়ার দিয়ে শুরু করব। একজন কোরআন তেলাওয়াত করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমাদের সংসদ নেতা তিনি ঘোষণা করবেন এই সভার সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জেষ্ঠ নেতাকে– প্রস্তাব করার পর কোনো একজন সমর্থন করবেন, তারপর তিনি সেখানে সভাপতিত্ব করবেন। সেই সভায় আমরা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করব।
স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরে তার আসনগ্রহণ, সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তার ওপর আলোচনার কর্মসূচি তুলে ধরেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, শোক প্রস্তাবে প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে আলোচনা হবে, জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে আলোচনা হবে, দেশবরণ্যে ব্যক্তিবর্গ যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের নিয়ে আলোচনা হবে।
এরপরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, অধ্যাদেশগুলো আইনমন্ত্রী উপস্থাপন করবেন। ২০২৪ সালের কর্মকমিশনের প্রতিবেদন উত্থাপন হবে এবং এরপরে সংসদ নেতা বক্তব্য রাখবেন। সংসদের বিজনেস এডভাইজারি কমিটি, বিশেষ কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, সংসদ কমিটি এসব কমিটিগুলো করার চেষ্টা করবেন তুলে ধরে তিন বলেন, যদি কালকে না করা যায় আমরা পরবর্তী দিনে এসব কমিটিগুলো করব।
সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধী দল থেকে দেওয়ার প্রস্তুাব নিয়ে আলোচনা হয়েছেন কিনা এবং বিরোধী দল থেকে এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে প্রধান হুইপ বলেন, এ ব্যাপারে আমরা এখনো পজিটিভ কোনো রেসপন্স পাইনি। রেসপন্স পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সংসদ উপনেতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নেতা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন; সংসদ উপনেতা হবেন কি হবেন না।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জুলাই সনদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদের ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা শপথ নেইনি। আমরা শপথ নেইনি কারণ এটা সংবিধানে নেই সেজন্য। সংবিধানে ইনক্লুড করার পরে, তারপরে তখন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, বিশেষ কমিটিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই–বাছাইয়ের জন্য যাবে, যেটা বাতিল হবে, আর যেটা গ্রহণ করার, তা নিয়ম অনুযায়ী হবে। যেগুলো পাস করার তা আমরা সংসদে পাস করব, ইনশাল্লাহ।
ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপের সঙ্গে ছিলেন হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, রফিকুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া।












