সেনা মোতায়েন কেন, ব্যাখ্যা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

| মঙ্গলবার , ২৩ জুন, ২০২৬ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের ছয় জায়গায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। মন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো জায়গায় তাদের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

আরো কিছু বিষয় আছে জানিয়ে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সেগুলো ফাঁস করতে চাই না। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য কিছু মহল অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। সেজন্য আমরা অ্যালার্ট থাকার অংশ হিসাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে আনার বিষয়টি রুটিন ওয়ার্ক। মাঝেমধ্যে প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে আনি, বিজিবিকে আনা হয়। গত দেড় বছর যাবৎ মাঠে থাকা সেনাবাহিনীকে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং গত ১৫ জুন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আগের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতির সাথে এটার কোনো মিল নেই।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ মাফিয়া বাহিনী আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় দেখেছি মিছিল মিটিং কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তাতে আমাদের মনে হয়েছে তারা একটা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলেও করতে পারে। এই বিবেচনায় আমাদের সকল বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি, যেটা সব সময় থাকে। তার বাইরে আমরা আজকে থেকে ৩০ তারিখ পর্যন্ত ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ আইন মোতাবেক সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছি, যাতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা অ্যাড্রেস করা যায়।

পুলিশের ওপর আস্থার অভাব থেকেই আবার সেনাবাহিনীর ডাক পড়ল কি না, সেই প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখানে আস্থাহীনতার প্রশ্ন আসে কেন? আমাদের পুলিশ বাহিনী যে সমস্ত কৃতিত্বপূর্ণ কার্যকলাপ করেছে, তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। দুয়েকটি জায়গায় যেখানে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে, তাদের সাজা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখানে আস্থাহীনতার কোনো বিষয় নয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিল কি নাপ্রশ্ন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি, তবে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে হয়।

নারায়ণগঞ্জ৩ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা নিয়েও মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ৩ আসনের এমপির ছেলের কি কোনো বিশেষ অধিকার আছে? আইনের চোখে সবাই সমান। পুলিশের কাছে বিভিন্ন রকমের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। প্রয়োজন মনে করেছে মুচলেকা নেওয়ার, মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সাক্ষাৎ দেন। সে সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন অধিকারে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমানবতাবিরোধী অপরাধ ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন