সীমান্তে পুশ ইন বন্ধ করুন : ভারতকে এইচআরডব্লিউ

| বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন, ২০২৬ at ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ

কোনো প্রকার ‘আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে বাংলাভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘পুশ ইন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। আন্তর্জাতিক এ মানবাধিকার সংস্থা মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের এই পদক্ষেপ এবং ঠেলে দেওয়া মানুষদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশবিজিবির প্রতিরোধের কারণে দুই দেশের সীমান্তের মধ্যবর্তী শূন্য রেখায় কয়েক ডজন পরিবার আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বিজিবির বরাত দিয়ে এইচআরডব্লিউ বলছে, ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে তারা শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ‘পুশইন’ করার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা নস্যাৎ করেছে। খবর বিডিনিউজের।

এ বিষয়ে এইচআরডব্লিউ এশিয়ার ডেপুটি ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, ভারত মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে আটকে রাখছে। ভারত সরকারের উচি বেআইনিভাবে মানুষ বিতাড়ন অবিলম্বে বন্ধ করা এবং তাদের প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তাদের উচিত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুসলমানদের প্রতি এই হতাশাজনক বিদ্বেষের অবসান ঘটানো।

বিবৃতিতে বলা হয়, এইচআরডব্লিউ এমন নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে, যারা বিএসএফকে রাতের অন্ধকারে একদল মানুষকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখেছেন। বেশ কয়েকটি ঘটনায় বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত বিএসএফ ওই মানুষদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এইচআরডব্লিউ চলমান এই বিতাড়ন প্রক্রিয়ার জন্য ভারতের সমালোচিত ‘ভোটার তালিকা সংশোধন’ এবং নাগরিকত্ব বাতিলের রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেছে।

সংস্থাটি বলছে, পশ্চিমবঙ্গে গত মার্চ মাসের নির্বাচনের ঠিক আগে, ভারতের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে এবং বিতর্কিত উপায়ে ভোটার তালিকা সংশোধন করে। এর ফলে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। আর এটিই মূলত আটক এবং নির্বাসনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে একটি ‘ত্রুটিপূর্ণ এবং বৈষম্যমূলক’ নাগরিকত্ব যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার (এনআরসি) ফলে ১৯ লাখের বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। সে সময় রাজ্যের হাজার হাজার বাংলাভাষীকে ডিটেনশন সেন্টারে (হোল্ডিং সেন্টার) বন্দি করা হয়।

ভারতের একজন সমাজকর্মী এইচআরডব্লিউকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত এলাকার হোল্ডিং সেন্টারগুলোতে আনুমানিক ৪০০ জন বন্দি আছে, যাদের অনেকেরই নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার পর তাদের আটক করা হয়েছে। এই তালিকা থেকে বাদ পড়াটাই এখন গ্রেপ্তার, আটক এবং বহিষ্কারের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি গোটা রাজ্যেই তীব্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।

সার্বিক বিষয়ে মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেন, জাতীয়তা যাই হোক না কেন, সশস্ত্র সীমান্ত রক্ষীদের দুটি লাইনের মাঝখানে কাউকে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতের উচিত এই নির্মম বহিষ্কার প্রক্রিয়া বন্ধ করা। তাছাড়া উভয় দেশের সরকারেরই নিশ্চিত করা উচিত যে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা যেন কোনোভাবেই মানুষের মৌলিক মানবিক মর্যাদার বিনিময়ে না হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফ্রান্সের ইতিহাসের সেরা গোলদাতা এখন এমবাপে
পরবর্তী নিবন্ধইরান-যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, সই হতে পারে কাল