সিআরবি বাঁচুক, হাসপাতাল হোক অন্যত্র

রেলমন্ত্রীকে চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিদের চিঠি ।। রেলের অন্য জায়গায় নির্মাণের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের অনুরোধ

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৭ আগস্ট, ২০২২ at ৫:২৩ পূর্বাহ্ণ

পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন এবং সর্বস্তরের মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ফুসফুস কালচারাল হেরিটেজ সিআরবিতে ইউনাইটেড হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি স্থগিতের জন্য রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনকে অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রামের মন্ত্রী ও এমপিরা। নেতৃবৃন্দ হাসপাতালটি রেলের অন্য জায়গায় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নেরও অনুরোধ জানান রেলমন্ত্রীকে।
চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতির অভিভাবকখ্যাত সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপির নেতৃত্বে চট্টগ্রামের দুই মন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে চিঠিটি হস্তান্তর করেন। এ সময় তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।
চিঠিতে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি, মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, মাহফুজুর রহমান মিতা এমপি ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি স্বাক্ষর করেছেন। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক সিআরবি এলাকায় পিপিপির আওতায় হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সীতাকুণ্ডের কুমিরায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় রেলমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানান বর্তমান ও সাবেক তিন মন্ত্রী।
চিঠিতেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানে (ড্যাপ) উক্ত এলাকাকে কালচারাল হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৮টি নির্দেশনার উল্ল্লেখ রয়েছে। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি এটি গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিআরবির কোনো অংশ ব্যবহার করা যাবে না এবং এখানে কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। শুধু পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পাখির অভয়ারণ্য, জাদুঘর, প্রজাপতি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করা যাবে। সবকিছু মিলিয়ে সিআরবি এখন চট্টগ্রামের সব মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার জায়গায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট গেজেটের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। বিষয়টিতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ভীষণভাবে কষ্ট পেয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতাল স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়ায় চট্টগ্রামবাসী আশান্বিত হয়েছেন, স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।
চিঠিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের ব্যানারে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অন্যত্র স্থানান্তরের দাবিতে সভা-সমাবেশের পাশাপাশি ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন প্রেরণ করেন। ২০২১ সালের ৬ আগস্ট তারা আপনার বরাবরেও একটি আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বেশ কিছু নিবন্ধ ও মতামত প্রকাশিত হয়েছে। চট্টগ্রামের আপামর মানুষের আবেগের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্যও চট্টগ্রামের সাবেক এবং বর্তমান মন্ত্রীরা আহ্বান জানিয়েছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন এবং চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সিআরবিতে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃক হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়টি স্থগিত করে অন্যত্র রেলওয়ের জায়গায় নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তারা অনুরোধ জানান।
প্রসঙ্গত, সিআরবিতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য ২০২০ সালের ১৮ মার্চ ইউনাইটেড গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করে রেলওয়ে। মোট ৪০০ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ১০০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ, ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং দুই ধাপে মোট ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল হবে। ৫০ বছর পর প্রকল্পের মালিকানা হবে রেলওয়ের।
২০২১ সালের শুরুতে সিআরবির সাত রাস্তার মোড়ের পূর্ব পাশে নির্ধারিত জমির সামনে প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়। জুলাই মাসে প্রকল্প এলাকার জমি হাসপাতাল নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে চট্টগ্রামের নাগরিক সমাজের ব্যানারে চট্টগ্রামের বুদ্ধিজীবীসহ নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করে।
এ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব কর্তৃপক্ষ (পিপিপি)। কার্যনির্বাহী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বাস্তবায়ন ও পরিচালনা করবে ইউনাইটেড চট্টগ্রাম হাসপাতাল লিমিটেড।
এদিকে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের লাগাতার আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে রেল কর্তৃপক্ষ অনেকটা নমনীয় হয়। সিআরবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে চলতি বছরের ৯ মে সিআরবি থেকে হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে।
পূর্ব রেলের সদর দপ্তর সিআরবির পরিবর্তে হাসপাতালটি সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় রেলওয়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া যক্ষ্মা হাসপাতাল এলাকায় হতে পারে বলেও বৈঠকে মত আসে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি বলছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে বা পিপিপি কর্তৃপক্ষ বিকল্প স্থানের বিষয়ে এখনো তাদের কিছু জানায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমাদের মানবাধিকার কোথায়, প্রশ্ন শেখ হাসিনার
পরবর্তী নিবন্ধপ্রথম দিনেই চমক দেখাল চসিকের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’