সাত দিনেও ধরা পড়েনি কোনো আসামি

রাউজানে যুবদল নেতা হত্যা

রাউজান প্রতিনিধি | শনিবার , ২০ জুন, ২০২৬ at ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের পাহাড়তলীতে রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় কোনো আসামিকে এখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করতে পারেনি। গত ১৩ জুন দিনদুপুরে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় এই যুবদল নেতাকে। এই ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন রাত ১২টায় নিহতের বড় ভাই বেতাগী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন রাউজান থানায় গিয়ে মামলা করেন। এই মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা হয় পাঁচজনের।

অজ্ঞাত ছিল আরো আটজন।

খবর নিয়ে জানা যায়, মাসুদ হত্যাকাণ্ডে লোমহর্ষক ঘটনার পর থেকে রাউজানের সর্বস্তরের জনসাধারণের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এদিকে প্রকাশ্যে দিবালোকে গুলি করে মাসুদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রেশ না কাটতেই ১৬ জুন উরকিরচর ইউনিয়নে রাশেদ (৪৫) নামের এক ব্যক্তির রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার ও কদলপুর ইউনিয়নের কৃষিজমি থেকে স্বপন বড়ুয়া নামের এক স্কুল দপ্তরির লাশ উদ্ধার করা হয়। এতে এই উপজেলার মানুষের মনে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে গেছে। লিশ এই দুটি ঘটনার রহস্যও এখনো উদঘাটন করতে পারেনি।

রাউজানের আইনশৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের সাথে কথা বললে তারা বলেন, যুবদল নেতা মাসুদ হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের বেশ কিছু সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছিল। আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বলেছিলোযারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাদের সকলকে সনাক্ত করা গেছে। হত্যাকারীরা সকলেই চট্টগ্রামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনুসারী। যাদের বাড়ি রাউজানে। তাদের মধ্যে পাঁচ সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে কিলিং মিশনে সরাসরি অংশ নিয়েছে। হত্যাকারীদের তিন জনের হাতে ছিল পিস্তল, দুইজনের কাছে শর্টগান। সেদিনের কিলিং মিশনের ওই ভিডিও ফুটেজ এখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে ভেসে বেড়াচ্ছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়ার দৃশ্য। রাউজানের চাঞ্চল্যকর এই খুনের সাথে জড়িতরা এখনো ধরা পড়ছে না কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশর‌্যাব আসামিদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে। রাউজান উপজেলার ভৌগলিক কারণে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, যেভাবে আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী জাল পেতে বসেছে, পাতানো জালে অবশ্যই খুনি সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হবে। উল্লেখ্য, রাউজানের পূর্বাংশের সীমানায় রয়েছে উঁচু নিচু দুর্গম পাহাড়। সেই সব পাহাড়ে রয়েছে রাউজান ও পার্বত্য এলাকায় উৎপাতকারী সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা।

স্থানীয় জনসাধারণের দেয়া তথ্যানুসারে, রাউজানের পাহাড়তলী, কদলপুর, রাউজান সদর ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ডে ২৪ এর পাঁচ আগস্ট পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা যত খুন ও পক্ষবিপক্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটিয়েছে সব ঘটনাই ঘটনো হয়েছে পাহাড় থেকে নেমে এসে। তারা তাদের মিশন শেষ করে আবারও পাহাড়ের গোপন আস্তানায় ফিরে যায় বলে জানা যায়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামে করা ইউনিয়নের নাম
পরবর্তী নিবন্ধখাকি প্যান্ট ও নীল-জলপাইরঙের শার্টে ফিরছে পুলিশ