সর্দারকে না জানিয়ে বিয়ে করায় এক বছর পর জরিমানা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | বুধবার , ৯ মার্চ, ২০২২ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়ার চুনতিতে সমাজের সর্দারকে না জানিয়ে বিয়ে করায় প্রায় এক বছর পর জরিমানা গুণতে হয়েছে যুবককে। ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের হাটখোলা মুড়া এলাকায় আরেকজনের বিয়ে উপলক্ষে পানছল্লা অনুষ্ঠানে এ জরিমানা করা হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। ভুক্তভোগী যুবকের নাম মো. ওয়াহিদুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ওই এলাকার জুনু মিয়ার পুত্র। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত।
জানা যায়, ২০২১ সালের মার্চ মাসে পারিবারিক সমস্যার কারণে তাড়াহুড়া করে বিয়ে করেন আলমগীর। তার বিয়েতে বরযাত্রী ছিল না। সামর্থ্য না থাকায় সমাজের মানুষকে ওয়ালিমাও খাওয়াতে পারেননি। ছোটবেলায় তার মা মারা যান। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে বড় ভাই বিয়ে করে আলাদা থাকেন। সমাজের লোকজনকে বিয়েতে খাওয়াতে না পারায় তার বাবাকেও কথা শুনতে হচ্ছে।
ওয়াহিদুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আক্ষেপ করে লিখেছেন, ‘বিয়ে করা কি পাপ? মা মারা যাওয়ার পরে একবেলা খেয়েছি, দুই বেলা খেতে পারি নাই। তখন তো সমাজ দেখে নাই। সময়মতো দুই বেলা ভাত খাওয়ার আশায় যখন বিয়ে করলাম, বিয়ে করে সমাজের লোকজনকে একবেলা ভাত খাওয়াতে পারিনি বলে তখন নিকৃষ্ট সমাজ আমাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। আল্লাহর কাছে বিচার চাই। এই জালিম সমাজ ধ্বংস হোক। হয়তো সুযোগ এবং সামর্থ্য ছিল না। না হয় কেউ কারো কাছে মাথা নত করে না।’
আলমগীর জানান, সমাজের সর্দার শামসুদ্দিনকে তখন বিয়ের ব্যাপারে অবগত করা হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় একটি চক্র আউলিয়া মসজিদের টাকা আত্মসাৎ করে। তার প্রতিবাদ করায় গত ৫ মার্চ অন্য আরেকজনের বিয়ে উপলক্ষে পানছল্লা অনুষ্ঠানে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন সমাজের সর্দার। এ সময় পানছল্লা অনুষ্ঠানে তার পিতা উপস্থিত ছিলেন। তখন পিতার কাছে টাকা ছিল না। পরে ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে সর্দারকে দেন। বাকি ৫ হাজার টাকার জন্য সর্দারের কাছে ক্ষমা চান। তিনি জানান, সমাজে অনেকেই তার মতো বিয়ে করেছেন। তাদের কাউকে জরিমানা করতে দেখিনি।
স্থানীয় সমাজের সর্দার শামসুদ্দিন বলেন, সমাজকে অবগত না করে বিয়ে করায় ওয়াহিদুল ইসলাম আলমগীর ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত ১০ বছর ধরে এটি তাদের সামাজিক নিয়ম।
চুনতি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়েছি। তবে ভুক্তভোগী কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জিতু বলেন, সমাজের সর্দারদের জরিমানা করার কোনো এখতিয়ার নেই। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি ভুক্তভোগীকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। তারপরও যদি ভুক্তভোগী কোনো প্রতিকার না পান, তবে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলোহাগাড়ায় অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন
পরবর্তী নিবন্ধফ্রি খাবার না দেয়ায় বাবুর্চিকে ছাত্রলীগের মারধর