সম্পর্কের আয়নায় জীবনবোধ

রাজু আহমেদ | সোমবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আপন মানুষের থেকে আঘাত পেলে মস্তিষ্কের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া শুরু হয় সেটার বেদনা শরীরের অনেকগুলো হাড়ভাঙ্গা ব্যথার সমান। অথচ যে কষ্ট দেয় সে এটা উপলব্ধি করে না। একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে বুকভাঙা আঘাত দিয়েও নিরুত্তাপ ঘুরে বেড়ায়। ভাবখানা দেখে মনে হয় যেন কিছুই করেনি! দুঃখিত হওয়ার সামান্য বোধও যাদের মনের মধ্যে জাগে না তাদেরকে আসলে আপন ভাবার যৌক্তিক কোন কারণ নাই। কিন্তু মানুষ তো গাধা স্বভাবের! যেখান থেকে বেশি গুঁতো খায় সেখানেই বেশি ঘষাঘষি করতে যায়!

ভুল হতে পারে কিন্তু ভুলের যদি বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটে তবে সেটা ক্রাইম। ভুল করার পরেও যারা ‘সরি’ বলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে না, একটু নত হয় না বরং ভুলের পক্ষে পাল্টা যুক্তি দিতে শুরু করে তাদের পাশে বসে পাঁচশো মাইল জার্নি করা সম্ভব হলেও গোটা একটা জীবন একসাথে কাটানো সম্ভব নয়। তবে কারো শরীরের প্রলেপ যদি গণ্ডারের চামড়া দিয়ে হয়, আত্মসম্মানের ঘটি যদি ফুটো হয়ে যায় কিংবা সেক্রিফাইসের সুমহান আদর্শ চরমভাবে অন্তরে লালন করতে পারেতবে সে শত লাথিগুতা সহ্য করেও মৃত্যু পর্যন্ত আঁকড়ে থাকতে পারে!

ক্ষমা মহোত্তম গুণগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। যদি কেউ ভুল করে ভুল বুঝতে পারে এবং ক্ষমা চায় তবে তাকে ক্ষমা না করা উদারতায় কৃপণতা কিংবা মানবিক সৌন্দর্যের ঘাটতি। ভুল করা মানুষের সহজাত। তবে ইচ্ছা করে ভুল করলে, মানুষকে আঘাত করার পরিকল্পনা করলে কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি সারলেতাদের থেকে সাবধান থাকা উচিত। যে মানুষ প্রতিহিংসাপরায়ণ তার থেকে যত দূরে থাকা যায় তত কল্যাণের। টক্সিক মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকা মানে শান্তির কাছাকাছি থাকা। ভালো থাকার জন্য ভুল মানুষের নাম জীবন থেকে টুপ করে কেটে দিতেই হবে।

আপন সাজার অভিনয় করে কেউ যদি কথা দিয়ে আঘাত করে, ক্ষততে খোঁচা দিয়ে বেদনা জাগ্রত করে এবং সুযোগ পেলে বিশ্বাস নষ্ট করেতাদের থেকে দূরে থাকা জরুরি। অনুপস্থিতিতে যারা নিন্দা করে তারা কোন বিচারেই আপন নয়। একজীবনে ভালো থাকার জন্য বেশি মানুষের দরকার নাই। নিজেকে ভালো রাখার জন্য প্রয়োজনে একলা থাকতে হবে তাও ময়লা ছড়ানো মানুষের সান্নিধ্যে গিয়ে শরীরে দুর্গন্ধ মাখানো এবং মনে ক্ষত ছড়ানো যাবে না। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই একলা থাকার যাত্রায় যাতে নিজেকে স্বার্থপর মনে না হয়। কখনো কারো আমানত নষ্ট করে, অধিকার হরণ করে এবং স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ভালো থাকা যায় না। মানুষের অভিশাপ ভয়ঙ্কর।

অন্যকে ঠকানো মানুষগুলোই জীবনে সবচেয়ে বেশি ঠকে। বাহিরের চাকচিক্য দেখে মানুষ অন্য মানুষের ভেতরের যন্ত্রণা মাপতে পারে না! সম্পদ দিয়ে সুখ মাপা যায় না। কারো হাসি দেখে ব্যথার গভীরতা জানা যায় না। একেকজন মানুষ একেক রকম! তাদের সুখ আলাদা, দুঃখও আলাদা। কেবল খেয়াল রাখতে হবে, আমি যেন কারো অভিশাপ, দীর্ঘশ্বাসের কারণ না হই। কারো চোখের পানিতে আমার আচরণ যাতে জড়িত না থাকে। অল্পে তুষ্টিবিধান জরুরি। জীবনের নামে অভিযোগের খাতা যত ছোট্ট হবে সুখের ব্যপ্তি তত বড় হবে। কারো ব্যথার কারণ না হয়ে সুখের বরিষণে আমাদের একচ্ছত্র অবদান থাকুক। প্রয়োজন ছাড়াও প্রিয়জনের খাতায় আমাদের নাম জ্বলজ্বলে রাখুক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাশেদ রউফ – এর অন্ত্যমিল
পরবর্তী নিবন্ধমোহনার কান্না এবং মৃনাল সেনের খারিজ