শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ

চবিতে সেমিনারে উপাচার্য

| মঙ্গলবার , ১১ আগস্ট, ২০২৬ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) এবং চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের যৌথ উদ্যোগে ‘CMA Journey: From Student to Professional Excellence’ শীর্ষক এক ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং সেমিনার গতকাল ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্‌ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্‌ জহুর। প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের অর্জিত শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করা। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কিছু অতিরিক্ত পেশাগত শিক্ষার সুযোগ প্রয়োজন, যা তাদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্রে নিজেদের আরও যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

তিনি বলেন, CMA এমন একটি অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ, যা আপনার BBA বা MBA এর একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। ভবিষ্যতে ব্যবসায় প্রশাসন ও করপোরেট অঙ্গনে উচ্চতর অবস্থানে যেতে চাইলে এ ধরনের পেশাগত শিক্ষা আপনাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধি পাক। তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার আগেই নিজেদের দক্ষতা, জ্ঞান ও পেশাগত যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। পেশাগত শিক্ষা সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। উপাচার্য বলেন, চবিতে বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। আমরা একাডেমিক কোর্সগুলোকে নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপউপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলআমীন বলেন, আইসিএমএ বাংলাদেশের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। এখানে উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পাস করার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা পার্টটাইম শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একইভাবে স্নাতক পর্যায়, মাস্টার্স পর্যায় এবং পরবর্তী সময়ে পেশাজীবী হিসেবেও এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভর্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য যে সুযোগ রাখা হয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্সের সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফারের সুযোগ থাকলে শিক্ষার্থীদের অনেক কোর্স কম সম্পন্ন করেই পেশাগত শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন। মূলবক্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. নিখিল চন্দ্র শীল। সভাপতিত্ব করেন আইসিএমএবি’র প্রেসিডেন্ট মো. কাউসার আলম। অনুষ্ঠানের টেকনিক্যাল সেশনে মুখ্য আলোচক ছিলেন চবি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. সলিম উদ্দিন। উক্ত সেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিএমএবি’র ভাইস প্রেসিডেন্ট এস. এম. জহির উদ্দিন হায়দার , সেক্রেটারি মনজুর মো. শাইফুল আজম, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. মুশফিকুর রহমান, রিজিয়নাল রিপ্রেজেন্টেটিভ ও কাউন্সিল মেম্বার ইমতিয়াজ আলম, চট্টগ্রাম ব্রাঞ্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উল্লাহ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রকিবুল ইসলাম মৈশান। বক্তারা শিক্ষার্থীদের সিএমএ পেশার গুরুত্ব, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং পেশাগত দক্ষতায় উন্নীত হওয়ার বিভিন্ন দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোটারি ক্লাব অব চিটাগং সাগরিকার গাছের চারা বিতরণ
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ সেপাক টাকরো এসো’কে ফেডারেশন হিসেবে অনুমোদন