শারদ সম্মাননায় সেরা ৫ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা করলেন মেয়র

| মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও বর্ণিল করে তুলতে ধর্মীয় সমপ্রীতি, সৃজনশীলতা ও নান্দনিক আয়োজনের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, উৎসবের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি সমপ্রীতিময় নগরী গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল সোমবার নগর ভবনে প্রধান অতিথি হিসেবে শারদ সম্মাননা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬টি নিবন্ধিত পূজামণ্ডপের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সেরা পাঁচটি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত দুটি বিশেষ জুরি প্যানেল সরেজমিনে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ীদের চূড়ান্ত করেন।

প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপ হলো– গোসাইলডাঙ্গা সর্বজনীন রাধাকৃষ্ণ মন্দির (থিম : ভাড়), বৈশাখী সংঘ, উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ি (থিম : জল দুয়ার), খলিফাপট্টি সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম : রক্তাঞ্জলি), পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ, হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দির (থিম : যুগান্তরের বার্তাবহন) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম : আত্মকথন)।

মেয়র বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। চট্টগ্রাম সবসময় ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সহাবস্থান ও সমপ্রীতির নগরী। পূজামণ্ডপের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আয়োজকদের আরও উৎসাহিত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য, চট্টগ্রামকে এমন একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সমপ্রীতিময় নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবেন। এবারের সম্মাননায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত, আলোকচিত্র শিল্পী শোয়েব ফারুকী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী বাপ্পা চোধুরী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী কংকন দাশ, সাংবাদিক নাছির উদ্দিন হায়দার, সাংবাদিক ফারুক তাহের, সাংবাদিক অনুপম পার্থ, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকুলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াংকা বড়ুয়া। বিচারকমণ্ডলী নিবন্ধিত মণ্ডপগুলোর শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেন।

শারদ সম্মাননার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর অনিমেশ কুমার চক্রবর্তী। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কবি ও সাহিত্যিক ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া, প্রফেসর ড. প্রকাশ দাশ গুপ্ত, কবি ও নজরুল গবেষক বাবলা চৌধুরী, মিডিয়াগ্রাফি অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মিল্টন দাশ বিজয় এবং অভিজিৎ অভি। সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন শোভন রাজা, শ্রাবণ দাশ ও আদিত্য দাস। বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে জুরি প্যানেল সদস্য চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের থিম, নান্দনিকতা ও শিল্পভাবনা ছিল প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে সেরা নির্বাচন করা ছিল আমাদের জন্য বেশ দায়িত্বপূর্ণ।

অন্যতম বিচারক চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত বলেন, নান্দনিক রূপায়ন, ঐতিহ্য রক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি।

প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, এইটা একটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেসকল পূজামণ্ডপ তাদের নান্দনিকতা, চমৎকার প্রতিমা শিল্প ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের এই সৃজনশীলতা ও চমৎকার মণ্ডপ সজ্জা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিচারকরা জানান, প্রতিটি মণ্ডপই তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতায় অনন্য ছিল। নান্দনিকতা ও সামাজিক বার্তার মেলবন্ধন বিচার করেই সেরা ৫টি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধনগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন সিএমপি কমিশনার
পরবর্তী নিবন্ধস্লো ওভার রেটের কারণে বাংলাদেশের জরিমানা