লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে টিলা কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্পের দক্ষিণ পাশে এই টিলা কাটা হয়েছে। এছাড়া টিলা কাটার স্থানে পাকাঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কিছুদিন ধরে রাতের আঁধারে এক্সকেভেটর দিয়ে খাস খতিয়ানভুক্ত টিলার মাটি কাটাছে। কাটা মাটি ডাম্পট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ কেটে সাবাড় করা হয়েছে, যা এলাকায় গুরুতর পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করেছে। প্রতিনিয়ত টিলা–পাহাড় ও কৃষিজমির টপসয়েল কেটে পাচার করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় পরিবেশ ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, উল্লেখিত স্থানে টিলার মাটি কেটে নেয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে পার্শ্ববর্তী ৬ পরিবারের বসতঘর। গত ১৯ মার্চ এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আনোয়ার (২১) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে স্থানীয় মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন নামে দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, টিলার গায়ে এক্সকেভেটর দিয়ে মাটি কাটার স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। টিলা কাটার ক্ষতস্থান আড়াল করতে কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। কর্তনকৃত টিলার একেবারে পাশেই রয়েছে কয়েকটি বসতঘর। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি হলে এসব ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। টিলা কাটার সময় সেখানে থাকা গাছও নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে। এছাড়া দখল নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা হয়েছে টিনের ঘর। ওই স্থানে পাকাভবন নির্মাণেরও প্রস্তুতি চলছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আনোয়ার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে টিলার উপর বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। তবে স্থানীয় কফিল উদ্দিন ও জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে টিলার প্রায় ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়ায় তাদের বসতঘর এখন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন জানান, পরিবারের সদস্য বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে ঘর নির্মাণ করতে হচ্ছে। তাই টিলার মাটি সমান করা হয়েছে। টিলা কেটে মাটি বিক্রির কথা তিনি অস্বীকার করেন। টিলা কাটার স্থান থেকে প্রায় ৩ হাত দূরত্বে বসতঘরগুলো। এতে বসতঘরগুলোর কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানান তিনি।
পুটিবিলা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল জানান, কর্তনকৃত টিলাটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। টিলার মাটি কাটায় পার্শ্ববর্তী বসতঘগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে। নিষেধ করলেও শুনেননি টিলা কর্তনকারীরা।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদারকে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এরপর টিলা কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












