রোমাঞ্চকর জয় ইস্ট জোনের সেন্ট্রাল জোন হারালো নর্থ জোনকে

| রবিবার , ১ মার্চ, ২০২৬ at ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

নাইম হাসান ও হাসান মাহমুদের অলরাউন্ড নৈপুন্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সাউথ জোনের বিপক্ষে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে ইস্ট জোন। বল হাতে ৩ উইকেট শিকারের পর ২০ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন নাইম। শেষ উইকেটে মুশফিক হাসানকে নিয়ে ৪০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইস্ট জোনকে নাটকীয় জয় এনে দেন হাসান। বল হাতে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে অনবদ্য ৩৫ রান করেন তিনি। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪৩.২ ওভারে ১৮০ রানে গুটিয়ে যায় সাউথ জোন। ইনিংসের শুরু থেকে রানের চাকা সচল রাখেন ওপেনার আনিসুল ইসলাম ইমন। ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৩ বলে ৫০ রান করেন তিনি। দলীয় ৭১ রানে ইমন ফেরার পর সাউথ জোনের হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেনি আর কোন ব্যাটার। লোয়ার অর্ডারে রবিউল হকের ৩১ ও শহিদুল ইসলামের ২৮ রানে সম্মানজনক সংগ্রহ পায় সাউথ জোন। হাসান ৫৫ রানে ও নাইম ২৪ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। জবাবে ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর ৫২ রানের জুটি গড়েন শাহাদাত হোসেন ও মোমিনুল হক। শাহাদাত ৪২ ও মোমিনুল ২৯ রানে আউট হন। পরের দিকের ব্যাটাররা দলের হাল ধরতে না পারলে ১৪১ রানে নবম উইকেট পতনে হারের মুখে ছিটকে পড়ে ইস্ট জোন। শেষ উইকেটে ৪০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ইস্ট জোনকে দুর্দান্ত জয় এনে দেন হাসান ও মুশফিক। ৫টি চারে ৪৫ বলে হাসান ৩৫ ও মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ৩২ রানে ৪ উইকেট নিয়েও সাউথ জোনের হার এড়াতে পারেননি সৌম্য সরকার। ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে সমান ৪ পয়েন্ট আছে ইস্ট ও সাউথ জোনের। তবে রান রেটে এগিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে ইস্ট জোন। এদিকে নর্থ জোনের মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি ম্লান করে ওপেনার জিশান আলমের শতকে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) টানা দ্বিতীয় জয় পেল সেন্ট্রাল জোন। গতকাল টুর্নামেন্টে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে সেন্ট্রাল জোন ২ উইকেটে হারিয়েছে নর্থ জোনকে। সেন্ট্রাল জোনের জিশান ১২৭ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন। নর্থ জোনের হয়ে হৃদয় করেন ১০২ রান। রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯ রানে ২ উইকেট হারায় নর্থ জোন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৪ ও লিটন দাস শূন্য হাতে ফিরেন। তৃতীয় উইকেটে ১৩৫ রানের জুটিতে নর্থ জোনকে চাপমুক্ত করেন ওপেনার তানজিদ ও হৃদয়। ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯২ বল খেলে ৯২ রানে থামেন তানজিদ। অন্যপ্রান্তে সেঞ্চুরির দেখা পান হৃদয়। ৮ বাউন্ডারিতে ১১৩ বলে ১০২ রান করেন হৃদয়। পঞ্চম উইকেটে সাব্বির রহমানের সাথে ১০২ রানের জুটি গড়েন তিনি। মারমুখী মেজাজে ৫১ বলে ৭৩ রান করেন সাব্বির। তার ইনিংসে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কা ছিল। এতে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩২২ রানের বড় সংগ্রহ পায় নর্থ জোন। সেন্ট্রাল জোনের পেসার আবু হায়দার ৪ উইকেট নেন। জবাবে টপ অর্ডারে মোহাম্মদ নাইম ১০ ও সাইফ হাসান ১৪ রানে ফিরলেও তৃতীয় উইকেটে ৯৪ রানের জুটি গড়েন জিশান ও মাহফিজুল ইসলাম। এই জুটিতে সেঞ্চুরি তুলে থামেন জিশান। ৯৩ বল খেলে ১৬টি চার ও ৫টি ছক্কায় নিজের ১২৭ রানের ইনিংসটি সাজান জিশান। এরপর মাহফিজুল ৫৪ ও অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৩৯ রানে আউট হলে ম্যাচ নিয়ে শঙ্কায় পড়ে সেন্ট্রাল জোন। তবে সাত নম্বরে নামা মোসাদ্দেকে হোসেনের ২৬ বলে ৫৪ রানের ক্যামিও ইনিংসে ৪ বল বাকী থাকতে দারুণ জয় পায় সেন্ট্রাল জোন। মোসাদ্দেকের অনবদ্য ইনিংসে ৪টি করে চারছক্কা ছিল। নর্থ জোনের স্পিনার রিশাদ হোসেন ৩ উইকেট নেন। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে সেন্ট্রাল জোন। তৃতীয় ম্যাচে প্রথম হারের দেখা পেল নর্থ জোন। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে আছে তারা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি
পরবর্তী নিবন্ধদেশে যদি এমন মাঠ পেতাম : শিউলি আজিম