পর্তুগিজ ফুটবল সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও স্প্যানিশ মডেল জর্জিনা রদ্রিগেজের আনুষ্ঠানিক বিয়ের কয়েক দিনের মাথায় তাদের কথিত ‘প্রি–নাপশিয়াল এগ্রিমেন্ট’ (বিয়ের আগের সম্পদ চুক্তি)-এর শর্তাবলি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিচ্ছেদ ঘটলে জর্জিনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজের বিপুল সম্পত্তি সুরক্ষায় এই আইনি ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি রেখেছেন রোনালদো। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কোনো কারণে দুজনের সম্পর্ক ভেঙে গেলে জর্জিনা আজীবন প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ইউরো (প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) করে ভাতা বা পেনশন পাবেন। এ ছাড়া স্পেনের মাদ্রিদের অভিজাত ‘লা ফিনকা’ এলাকায় অবস্থিত বিলাসবহুল পারিবারিক প্রাসাদটির মালিকানাও বিচ্ছেদের পর সরাসরি জর্জিনার নামে হস্তান্তর করার শর্ত রয়েছে ওই চুক্তিতে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চুক্তিপত্রের বিবরণ সামনে এসেছে। তবে পত্রিকাটি মূল আইনি নথি প্রকাশ্যে আনেনি বা নির্ভরযোগ্য সূত্রের নাম প্রকাশ করেনি। তাই এসব শর্ত ও আর্থিক পরিমাণকে রোনালদো–জর্জিনা দম্পতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা তথ্য নয়, বরং চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সম্পর্ক শুরুর প্রথম দিকে তাদের প্রথম কন্যাসন্তানের জন্মের পরই এই চুক্তির মূল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আগে থেকেই সম্পত্তির বণ্টন ও নিয়ম ঠিক রাখা, যাতে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হয়ে সন্তানদের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল–নাসরে খেলা ৪১ বছর বয়সী রোনালদোর মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি। ফুটবল চুক্তি, বৈশ্বিক বিজ্ঞাপন ও নানা লাভজনক ব্যবসায়িক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ গড়েছেন তিনি। অন্যদিকে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগ এবং নিজের ওপর নির্মিত জনপ্রিয় টিভি সিরিজের মাধ্যমে ৩২ বছর বয়সী জর্জিনাও নিজের সফল ক্যারিয়ার ও আর্থিক অবস্থান তৈরি করেছেন। দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে একসঙ্গে থাকা এবং পাঁচ সন্তানের অভিভাবক এই তারকা জুটি গত ১১ আগস্ট পর্তুগালের কাসকাইসে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে সিভিল ম্যারেজের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।












