রাঙামাটিতে ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত

বাঘাইছড়ির সঙ্গে নিরাপদ যাতায়াতে আসছে প্রকল্প

প্রান্ত রনি, রাঙামাটি | মঙ্গলবার , ১৪ জুলাই, ২০২৬ at ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ি জেলা রাঙামাটিতে টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে জেলার ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাউখালী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে। জরুরিভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত অন্তত ১ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলছেন প্রকৌশলীরা।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাঙামাটি জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৫ জুলাই (রোববার) থেকে রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী টানা বর্ষণের প্রভাবে রাঙামাটি জেলার ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরমধ্যে জেলার কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া, কলমপতি ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ২৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া লংগদু উপজেলার লংগদু সদর ইউনিয়নে ৫ কিলোমিটার, বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা ও বাঘাইছড়ি ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার, কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার ও রাজস্থলী উপজেলার বাঙালহালিয়া ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কিছু কিছু অংশ একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এলজিইডির প্রকোশলীরা বলছেন, প্রাথমিক তথ্যমতে টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাঙামাটির ৫ উপজেলার ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ হয় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া দুই কালভার্ট পানির স্রোতে ধসে গেছে। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় বানের পানি নেমে গেলে সড়কের ক্ষতচিহ্ন দৃশ্যমান হবে। অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরুরিভিত্তিতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক মেরামতে ১ কোটি টাকা ব্যয় হবে এলজিইডির। তবে টেকসইভাবে মেরামত করলে ৮১০ কোটি টাকার প্রয়োজন।

৫ দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ: এদিকে, আয়তনের দিক থেকে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির সঙ্গে পাঁচদিন ধরে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে মারিশ্যাবাঘাইহাট সড়কের দুইকিলো এলাকায় সড়ক দেবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণের ফলে বৃহস্পতিবার সড়কের একটি অংশ দেবে এই সড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে সড়ক মেরামত করা সম্ভব হচ্ছিল না। এছাড়াও মারিশ্যাবাঘাইহাট সড়কের ৭, , ১১, ৩ ও ২ কিলো এলাকায় সড়কের পাঁচটি অংশ পাহাড়ধসের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সড়কটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য একটি ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে। উল্লেখ যে, বাঘাইছড়ি উপজেলা রাঙামাটি জেলার মধ্যে হলেও সড়কটি খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সড়ক পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও খাগড়াছড়ি জেলা সদর ও দীঘিনালা উপজেলা হয়ে যেতে হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমডেল মসজিদের ব্যয় বৃদ্ধির তদন্ত হবে : সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধকার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলছে গাড়ি