রমজান শুরু না হতেই নগরে অসহনীয় যানজট

গ্রাম রিকশা ও অনুমোদনহীন গাড়ির কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয়

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৩ এপ্রিল, ২০২২ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

পবিত্র মাহে রমজানের শুরু হতে না হতেই অসহনীয় যানজটের কবলে পড়েছে বন্দরনগরী। একদিকে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ায় মার্কেট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু খোলা। তার ওপর গতকাল সন্ধ্যা থেকেই মুসলমানরা তারাবির নামাজে অংশ নিয়েছেন। তাই প্রথম তারাবির দিন সকাল থেকে নগরীর সড়কগুলোতে যান চলাচলের চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিকাল গড়ানোর সাথে সাথে এই চাপ বাড়তে বাড়তে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
এদিকে রমজান মাসকে সামনে রেখে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপির ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ। তিনি বলেন, রমজানে যানজট বৃদ্ধি পায়। তাই রোজার আগেই আমরা রমজান মাসকে ঘিরে ১২টি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। তবে রমজান শুরুর আগের দিন নগরীর এমন অসহনীয় যানজটে ট্রাফিক পুলিশকেও অনেকটা নিরুপায় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ আর সময়ের অপচয়। গতকাল নগরীর যানজট এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে, কোনো যানবাহনে যে দূরত্ব ত্রিশ মিনিটে অতিক্রম করার কথা, কখনও কখনও সেই দূরত্ব এক বা দুই ঘণ্টায়ও অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছিল না।
বিভিন্ন সড়কে দেখা গেছে, বিকাল ৩টার পর থেকেই অধিকাংশ কর্মজীবী ঘরের পথে অফিস ছেড়ে গেছেন। আর ঘরমুখো মানুষের এই চাপ এসে পড়েছে সড়কের ওপর। তার ওপর আবার এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে, ওয়াসার সড়ক কাটাসহ বিভিন্ন সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় সড়কগুলোতে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’র অবস্থা হয়েছে। সকাল থেকেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক যানজটে একেবারে নাকাল অবস্থা।
বিকাল ৪টার পর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা, টাইগারপাস, চৌমুহনী, আগ্রাবাদ, কাস্টমস মোড়, ইপিজেড মোড়ে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়। নগরীর ব্যাকবোন রোড খ্যাত এই সড়কের আগ্রাবাদ থেকে লালখান বাজার এলাকা পর্যন্ত এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ের কাজ চলমান। আবার এঙপ্রেসওয়ের কাটগড় এলাকা থেকে ইপিজেড এলাকা পর্যন্ত কাজ শেষ হলেও কর্তিত সড়ক এখনো অবমুক্ত করা হয়নি। এমন অবস্থায় এই সড়কটির যানজট পরিস্থিতি ছিল নাজুক।
এদিকে, নগরীর কালুরঘাট থেকে চকবাজার-নিউ মার্কেট রুটেও দিনভর যানবাহনের চাপ দেখা গেছে। যানজটের একই চিত্র দেখা গেছে জাকির হোসেন রোড, পোর্ট কানেকটিং রোড ও অঙিজেন রোডে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেটকে কেন্দ্র করে আশপাশের প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার এলাকা, বহদ্দারহাটের আশপাশেও প্রায় চার-পাঁচ কিলোমিটার এলাকা দিনের বেশিরভাগ সময় যানজটে স্থবির ছিল। এর বাইরে দেওয়ানহাট মোড় থেকে আগ্রাবাদ, বন্দর হয়ে সিইপিজেড মোড় পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায়ও সৃষ্টি হয় অস্বাভাবিক যানজটের।
জানা গেছে, ইদানীং মফস্বল এলাকার রিকশা ও সিএনজি টেঙি বিনা বাধায় শহর ও শহরতলিতে ঢুকে পড়ছে। ফলে নগরীর নিউ মার্কেট-সংলগ্ন সড়ক ও শহরতলির অঙিজেন, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, অলংকার মোড় এলাকায় যানজট দিন দিন বাড়ছে। পুলিশের প্রস্তুতি সত্ত্বেও গ্রাম থেকে আসা রিকশা ও অনুমোদনহীন গাড়ি চলাচলের কারণে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতারা। তারা বলছেন, রিকশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। আর মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি বন্ধ রাখার দায়িত্ব নগর পুলিশের।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচাচার সামনে প্রাণ গেল হেফজখানা শিক্ষার্থীর
পরবর্তী নিবন্ধবাজার মনিটরিংয়ে জেলা প্রশাসনের ৫ টিম