‘রডের বদলে বাঁশ ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে’ অভিযোগ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করা সেই এইচ এম শহীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটির পক্ষে একজন সহকারী প্রকৌশলী বাদী হয়ে গত রোববার চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আরজিতে বলা হয়, উদ্দেশ্যমূলক ভিডিও প্রচার করায় চসিক এবং মেয়রের মান মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। যা দণ্ডবিধির ৫০০/৩৪ ধারায় ফৌজদারী অপরাধ। মামলা দায়েরের বিষয়টি চসিকের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তারা আজাদীকে নিশ্চিত করেন।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের ফান্ডে একটি প্রকল্পের আওতায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মহসিন কলেজ মাঠের উন্নয়ন কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডেল্টা ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড। এ প্রকল্পে মাঠের উন্নয়নের পাশাপাশি ওয়াকওয়ে নির্মাণ, বাই সাইকেল লেইন নির্মাণ, ওয়াশরুম নির্মাণ, মিনি গ্যালারি নির্মাণ, সারফেস ড্রেন নির্মাণ, গেভিওন ওয়াল নির্মাণ, ফ্লাডলাইট ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক বেশ কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে মামলার আরজিতে বলা হয়, মহসিন কলেজের মাঠটি কলেজ পাহাড়ের অববাহিকায় অবস্থিত। সেখানে আগে থেকেই একটা ব্রিকস রিটেইনিং ওয়াল ছিল। এটার পাশ দিয়েই মাঠের পাশ ঘেষে বেইজ এবং শট কলামের উপর একটি আরসিসি গ্রেট বিম নির্মাণ করা হয়, যার উপর নির্মাণ করা হচ্ছে ৬০০ ফুট দীর্ঘ একটি গেভিওন ওয়াল (লোহার খাঁচা দ্বারা নির্মিত ওয়াল, যার ভেতরে স্টোন থাকে)। পুরনো ব্রিকস রিটেইনিং ওয়াল এবং আরসিসি গ্রেট বিমের মধ্যখানে ৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি খালি স্থান তৈরি হয়। যেটা ভরাট না করলে জলাবদ্ধতাসহ মশা উৎপাদনের শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু স্থানটি ভরাটের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি ছিল না।
মামলার আরজিতে দাবি করা হয়, স্ব–উদ্যোগে স্থানটি ভরাট করছে ঠিকাদারি প্রতষ্ঠান। এজন্য বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন এরিয়া থেকে কিছু ম্যাকাডামের ইট ভাঙা জড়ো করে। এছাড়া পুরনো ব্রিকস রিটেইনিং ওয়াল এবং আরসিসি গ্রেট বিমের মধ্যখানের স্থানে বিমের টপ লেভেল পর্যন্ত ভরাট করার চলমান কাজ চলমান আছে। এখানে গেভিওন ওয়ালটির স্টোন লোড ক্যাপাসিটি পরীক্ষার জন্য আনুমানিক ২৫–৩০ ফুটের একটি অংশ স্টোন এবং কিছু ভাঙা ইট দিয়া ভরাট করা হয়। এদিকে প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের পাথর সিলেট থেকে এসে না পৌঁছায় পাথরের সাথে ভাঙা ইট দিয়ে লোড টেস্ট করার জন্য অস্থায়ীভাবে খাঁচা ভরাট করা হয়। গেভিওন ওয়ালের খাঁচাটি রডের জালি দ্বারা নির্মিত, ফলে এটার ভেতর এবং বাহির দৃশ্যমান হওয়ায় শুধুমাত্র স্থাপত্য নকশার বাইরে অন্য ইট বা ঢালাই ভাঙা দিয়ে ভরাট করা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়, প্রকল্প শেষ হওয়ার পূর্বে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এইচ এম শহীদ তার ফেসবুক ওয়ালে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এতে ক্যাপশন দেয়া হয়–চট্টগ্রাম সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজ মাঠ উন্নয়নে ব্যাপক অনিয়ম। এ যেন আরেক বালিশকাণ্ড। প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট থাকলেও দেওয়া হয়েছে রডের বদলে বাঁশ।
মামলার আরজিতে আরও বলা হয়, লাইভ ভিডিওতে এইচ এম শহীদ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর এই কাজকে ‘বাটপারি’ কাজ বলে আখ্যায়িত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, কাজটি নিয়ন্ত্রণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র। আরো উল্লেখ করেন–সামান্য ওয়ালের কাজে কী পরিমাণ বাটপারি কল্পনা করা যায় না, আবার এও বলেন যে, রডের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে বাঁশ। ভিডিও প্রচারের পরদিন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনসহ করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থলে যান এবং এইচ এম শহীদকে সাথে নিয়ে ভিডিওতে প্রচারিত বিষয়টি উল্লেখ করে প্রমাণ করতে বলেন। কিন্তু গেভিওন ওয়ালের লোড পরীক্ষার বিষয়ে সে জবাব দিতে পারেনি এবং রডের পরিবর্তে বাঁশের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। বরং ‘দিনের আলোতে পুকুর চুরি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ’ ক্যাপশন দিয়ে পুনরায় ভিডিওটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রচার করে। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যমূলক উল্লেখ করে এ ভিডিও প্রচারে চসিক ও মেয়রের মান মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় মামলার আরজিতে।










