যে কারণে দোকানিকে হত্যা করে জিসান

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৭ আগস্ট, ২০২২ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘদিন ধরে শাহাদাত নামে এক দোকানির যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছিল আসামি আদনান জিসান (২০)। কিছু করতেও পারছে না, বলতেও পারছিল না কাউকে। কারণ তার কথা বিশ্বাস করবে না কেউ। তাই তিলে তিলে প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছিল সে। অবশেষে ভারতীয় সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে সে ওই দোকানিকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন দাইয়াপাড়া এলাকায় টয়লেট থেকে এক দোকানির লাশ উদ্ধারের নেপথ্যে থাকা রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য আজাদীকে জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম) মুহাম্মদ আলী হোসেন।
আলী হোসেন বলেন, গত ১ আগস্ট ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া এলাকার একটি মার্কেটের টয়লেট থেকে মুদি দোকানদার শাহাদাত হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিহতের বাবা ডবলমুরিং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তে নামে ডিবি। তিনি জানান, ডবলমুরিং এলাকায় একাই থাকতেন শাহাদাত। তার মুদি দোকানে গিয়ে কেনাকাটার সূত্রে গত ৪-৫ মাস আগে পরিচয় হয় জিসানের। এতে দুই জনের মধ্যে গড়ে উঠে সুসম্পর্ক। জিসানের বাসা নগরীর হালিশহর থানার সবুজবাগ এলাকায়। একদিন বাসায় ফিরতে দেরি হলে নিজ বাসায় ঢুকতে না পেরে শাহাদাত হোসেনের বাসায় আশ্রয় নেয় জিসান। ওই রাতে শাহাদাত তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে। কিন্তু এতে জিসান রাজি না হওয়ায় চুরির দায়ে মামলা করে তাকে জেলে পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। এর ফলে ভীত জিসানকে নিপীড়ন করে শাহাদাত। এরপর থেকে ক্রমাগত নিপীড়নের শিকার জিসান অতিষ্ঠ হয়ে ক্রাইম পেট্রোল দেখে শাহাদাতকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এমনকি ওই দোকানিকে হত্যা করতে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ৪০০ টাকায় একটি টিপ ছুরি কিনে সে।
জিজ্ঞাসাবাদে জিসানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিসি আলী হোসেন বলেন, শাহাদাতকে খুন করার জন্য নিউমার্কেট থেকে কেনা ছোরাটি নিজের সঙ্গেই রাখতো জিসান। খুন হওয়ার ২ দিন আগে গত ২৮ জুলাই রাতে তাকে দোকানের পেছনে নিয়ে নিপীড়ন করে শাহাদাত। কিন্তু সাহস করতে না পারায় সেদিন তার পক্ষে কিছু করা হয়ে উঠেনি। এরপর ৩১ জুলাই রাতে জিসানকে আবারো দোকানে ডাকে শাহাদাত। দোকান বন্ধ করে পেছনে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে লাইট বন্ধ করে জিসানকে নিপীড়নের চেষ্টা করে। এসময় জিসান পকেট থেকে ছুরি বের করে বুক, পেট, হাত ও উরুতে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে শাহাদাতকে হত্যা করে।
মুহাম্মদ আলী হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু পাওয়া যাচ্ছিল না কিছুতেই। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, এলাকার নাইট গার্ডসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেও ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘটনাস্থল এবং আশেপাশের নানামুখী তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চলতে থাকে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীর মোবাইলের কল লিস্ট পর্যালোচনা করে জিসানকে শনাক্ত করা হয়। এরপর শুক্রবার রাতে আনোয়ারা থানার তেকোটা এলাকা থেকে মো. আদনান জিসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে তার বোনের বাড়ি। খুন করার পর সে সেখানে পালিয়ে চলে গিয়েছিল। এসময় শাহাদাতের চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ঝোঁপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বিজিএমইএর
পরবর্তী নিবন্ধঅধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রভাষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ