মোহাম্মদ খালেদ ও দৈনিক আজাদী অভিন্ন সত্তা

মোহাম্মদ আবদুল মালেক | বুধবার , ৬ জুলাই, ২০২২ at ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ খালেদ ও দৈনিক আজাদী অভিন্ন সত্তা। আজ থেকে ৬২ বছর আগে ১৯৬০ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আমার বাবা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক আজাদী প্রকাশ করেছিলেন। পত্রিকা প্রকাশের দুই বছরের মাথায় ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ সালে তিনি মারা যান। এ সময় অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে আমৃত্যু কাজ করে যান। তাঁর পরে হাল ধরি আমি। আমাদের পরম আনন্দের বিষয়, আজাদী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দৈনিক। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর সকালে দেশে কোনো পত্রিকা বের না হলেও আজাদী প্রকাশিত হয়েছিল। এ পত্রিকার মেরুদণ্ড হচ্ছে তার পাঠকরা। তাদের কাছ থেকে অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছি বলেই আজও আজাদী সবেগে প্রবহমান।

আমাদের আজাদীর সম্পাদকীয় নীতিগুলোর একটি হলো বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া কোনো ব্যক্তির জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে লেখা প্রকাশ না করা, এমনকি সংবাদ ছাপানো থেকেও আমরা সজ্ঞানে বিরত থাকার চেষ্টা করি। তবে মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা তাঁকে স্মরণ করি এবং তাঁর অবদান তুলে ধরার চেষ্টা করি। কিন্তু অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের এবারের জন্মবার্ষিকী একটা বিশেষ ক্ষণ, বিশেষ মর্যাদার, কেননা এটি জন্মশতবার্ষিকী। তাই জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন।

অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদকে খুব কাছ থেকেই যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেনতিনি ছিলেন অনন্যসাধারণ মানুষ। সাধারণ চলাফেরা করতেন, সেটাই ছিল তাঁর অসাধারণত্ব। তাঁর মধ্যে সামান্যতম অহংবোধও ছিল না। একজন মানুষ হিসেবে তিনি মানুষের জন্যই নিবেদিত ছিলেন। তাঁর কাছে মানুষ সবসময় সৎ পরামর্শ পেয়েছেন। পদ পদবির জন্য মোহাম্মদ খালেদের কোনো আকাঙ্ক্ষা ছিল না। তাঁর আরাধ্য ছিল মানুষের কল্যাণ ও সমাজের প্রগতি। একজন সৎ মানুষ হিসেবে তাঁর সততার মাপকাঠি ছিল অনন্য উচ্চতায়। এ কারণেই তিনি আমাদের অন্তরে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক যেই উদ্দেশ্য নিয়ে আজাদী প্রকাশ করেছিলেন, তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে গেছেন অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ। আমরাও এগিয়ে যাচ্ছি তাঁদের আদর্শ বুকে নিয়ে।

৫৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছিলেন, ‘দৈনিক আজাদী এখনও পুরো জাতিকে প্রেরণা জোগাচ্ছে। তাদের অর্জনের ভাগীদার আমরাও। দৈনিক আজাদী সাংবাদিকতার ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে’। মতিউর রহমান বলেছিলেন, ‘জয় বাংলা বাংলার জয় স্লোগানে স্বাধীনতার প্রথম প্রহর ১৭ ডিসেম্বর দৈনিক আজাদীর প্রকাশ ঐতিহাসিক’। রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রাম ও আজাদী অভিন্ন সত্তা। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের মধ্যে যেসব জিনিস আছে, তার মধ্যে আজাদী অন্যতম’। এই আজাদীকে নিয়ে আমাদের গর্ব, কারণ এই আজাদীর সঙ্গে আছেন আমাদের বিশাল পাঠকশ্রেণি ও তাঁদের ভালোবাসা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবৃহত্তর চট্টগ্রামে এক মাসে ম্যালেরিয়ায় ৭ জনের মৃত্যু শনাক্ত ৩৬
পরবর্তী নিবন্ধঅধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের জন্মশতবার্ষিকী আজ