মেধা নিয়ে গর্ব করার সুযোগ নেই জনকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে

কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় এনবিআর চেয়ারম্যান

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, মেধাবীদের প্রতি আমার একটা কথা আছে। সেটি হলোআমি মেধাবী, এই জন্য গর্ব করার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, মেধাটা তৈরি করা যায় না। এটা আল্লাহ প্রদত্ত। সেজন্য আমরা তাঁর কাছে সারাক্ষণ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করব। কিন্তু গৌরব করার মতো যেটা, সেটা হচ্ছে, এই মেধাকে আমি কিভাবে কাজে লাগাচ্ছি। আমি সঠিক রাস্তায় এটাকে পজিটিভলি জনকল্যাণে কাজে লাগাচ্ছি কিনা।

গতকাল বিকেলে নগরীর আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সদস্যদের সন্তানদের মধ্যে এসএসসিএইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশন সংবর্ধনাটির আয়োজন করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা অনেক মেধাবী দেখেছি, যারা শুধুমাত্র সঠিক রাস্তায় ছিল না এবং কঠোর পরিশ্রম করেনি, তাই পরবর্তীতে ভালো করতে পারেনি। এটা অনেকটা ইস্পাতের মতো, এই ধাতুটা খুবই ধারালো। কিন্তু যদি এটা আমি ব্যবহার না করি, তাহলে এটাতে জং ধরে যাবে। আমাকে আল্লাহ যে সম্পদটা দিয়েছে, যে ক্যাপাসিটি দিয়েছে, এটা আমার পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে, পূর্ণ আস্থা থাকতে হবে। আমরা যদি এটার সঠিক ব্যবহার না করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা একসময় না একসময় আমরা হারিয়ে যাব। এই বিষয়টা আমাদেরকে খুবই খেয়াল রাখতে হবে। কারণ এটা যদি আমরা সঠিকভাবে করতে পারি, তাহলে আমরা অনেক, অনেক দূরে চলে যাব। আমরা প্রকৃতির থেকে শিখতে পারি। তোমরা যদি কখনো খুব করে খেয়াল রাখো, যে একটা ঈগল কিভাবে একটা শিকারকে টার্গেট করে, ফোকাস করে, এবং সেই শিকারটা ক্যাচ করে চলে যায়। সে যখন টার্গেট করে, অনেক উপর থেকে সে ধীরে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসে। পথে তাকে অনেকে অনেক বিরক্ত করে, কাক তার পিছনে উঠে যায়, নানাভাবে তাকে তার ফোকাস নষ্ট করার চেষ্টা করে। কিন্তু, সেই ঈগল কিন্তু তার দিকে তাকায় না, ডিস্টার্ব ফিল করে না, মনোযোগও দেয় না। তার ফোকাস থাকে ঐ যে যেই একটা মাছকে সে টার্গেট করেছে, সেটাকে ধরে নিয়ে আসা। এইভাবে ফোকাস থাকতে হবে। আমরা আমাদের চলার পথে নানাভাবে, আমি যদি বিশ্বাস করি, যে এই কাজটা আমার করা উচিত, এই আদর্শকে আমার ধারণ করা উচিত, আমি এখানে অবিচল থাকব। কোনোভাবেই কেউ যাতে আমাদেরকে ডিফোকাস করতে পারবে, আমার যাতে মনোযোগটা অন্য দিকে সরিয়ে নেয়া হবে, তাহলে আমি এবং সেগুলো আমি কেয়ার করব না। তাহলে আমার জীবনে সাকসেস আসবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যারা বড় অফিসার হয়েছিআমরা কিন্তু জনগণের টাকায় পড়াশোনা করেছি। বড় লোকেরা কিন্তু ট্যাঙ দেয় না। এটা আপনাদের বুঝতে হবে। ৭২ সালে টোটাল যা রাজস্ব আদায় করতো, ৯০% ছিল ইমপোর্ট থেকে আসতো। এগুলো কস্টিং যোগ করে জনগণ থেকে আদায় করা হতো। এখনো সেই দৃশ্য খুব বেশি চেঞ্জ হয় নাই। এখন কমেছে। ২০ থেকে ২২ শতাংশ কাস্টম ডিউটি থেকে পাই। ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাঙ থেকে বাকিটা আসে। তার মানে, বড়লোক যেখানে ট্যাঙ দেবে, সেটা হচ্ছে ইনকাম ট্যাঙ। সেই জায়গাটা কিন্তু এখনো আমরা ক্যাচ করতে পারি নাই। তার মানে, আমরা প্রত্যেকে গরীব জনগণের টাকায় লেখাপড়া করেছি। এই গরীব জনগণের আমাদের উপর ১০০% হক আছে। সুতরাং তাদের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য যখনই আমাদের করার সুযোগ হবে, আমাদের ১৬ আনা দিতে হবে। কারণ এটা আমাদের ঋণ। এই ঋণ আমাদের দেশের প্রতি আমাদের শোধ করতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুলের আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে রাখেন চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার শফি উদ্দিন, চট্টগ্রাম কাস্টমস এঙাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সল মো. মুরাদ, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল১ এর কমিশনার আবুল কালাম আজাদ, কর আপীল চট্টগ্রাম অঞ্চলের কমিশনার শামিনা ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইউরোপ সঠিক পথে এগোচ্ছে না, গ্রিনল্যান্ড দখলে আলোচনা চাই
পরবর্তী নিবন্ধআগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে