মালদ্বীপকে হারিয়ে ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ২১ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ

হ্যান্ডবলে মালদ্বীপকে হারিয়ে বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে নাম লিখিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশের মেয়েরা। গতকাল মঙ্গলবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে মালদ্বীপকে ৩৩–২০ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। ভালো শুরুর পরও প্রথমার্ধে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে মালদ্বীপ। দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অতিথিরা। কিন্তু এই অর্ধে সমানতালে লড়লেও ম্যাচ জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে বাংলাদেশের ১১ গোলের লিডই ব্যবধান গড়ে দেয়। প্রথমার্ধে লাল সবুজের মেয়েরা এগিয়ে ছিল ১৬–৫ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের ১৭ গোলের জবাবে মালদ্বীপ করে ১৫টি। ৮ গোল করে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের মোসাম্মত সানজিদা আক্তার। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা শুরু করে নেপালকে ৩৩–২০ গোলে হারিয়ে। পরের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ভারতের কাছে মেয়েরা হার মানে ৪৭–১৩ ব্যবধানে। ফাইনালে উঠতে রাউন্ড রবিন লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার জিততে হত বাংলাদেশকে। এমন ম্যাচে অবশ্য মালদ্বীপকে সহজেই হারিয়েছে আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার দল। আগামী বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় আইএইচএফ নেশনস ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে ভারতের। আর ব্রোঞ্জ পদক জয়ের ম্যাচটি আজ বুধবার। দুপুর ২টায় যেখানে মালদ্বীপ খেলবে নেপালের সঙ্গে।

এদিকে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন বাংলাদেশের দুই খেলোয়াড় সানজিদা আক্তার ও সাকিবা জান্নাত শাম্মী। মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ে বড় অবদান রাখেন সানজিদা। একাই ৮টি গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন বাংলাদেশের এই তারকা। ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স ও ফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে কথা বলেন তিনি। সানজিদা জানান, ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে করা ভুলত্রুটিগুলো নিয়ে আলোচনা করে মালদ্বীপের বিপক্ষে সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তারা। তার মতে, সেই চেষ্টারই প্রতিফলন ঘটেছে জয়ে। ফাইনালে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের সম্মান ধরে রাখতে চান তারা। সানজিদা বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমাদের দেশের মাটিতে খেলা, তাই আমরা চাইব সম্মান ধরে রাখতে। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’

ভারতের বিপক্ষে দুই দলের প্রস্তুতির পার্থক্য তুলে ধরে সানজিদা বলেন, ‘আপনারা জানেন, ভারত আমাদের চেয়ে অনেক ভালো। কারণ, তারা নিয়মিত অনুশীলন করে, সারা বছর ক্যাম্পে থাকে। আমাদের কিন্তু সেই সুযোগ হয় না। চার–পাঁচ মাসের ক্যাম্প হয়। ওই সময়ের মধ্যে আমরা যতটুকু পারি নিজেদের প্রস্তুত করি।’ ভারতকে কঠিন প্রতিপক্ষ মানছেন দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় সাকিবা জান্নাত শাম্মীও। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে ভালো খেলার লক্ষ্য বাংলাদেশের এই খেলোয়াড়ের। শাম্মী বলেন, ‘ভারত অভিজ্ঞ একটি দল। তাদের খেলোয়াড়েরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলেন এবং অনেক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

র‌্যাংকিংয়েও তারা আমাদের চেয়ে এগিয়ে। আমরা তো এত আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই না। তবে ইনশাআল্লাহ, একদিন আমরা ভারতকে হারাব। আপাতত ভারতের বিপক্ষে ভালো একটি ম্যাচ উপহার দিতে চাই।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেফারি পদোন্নতি পরীক্ষায় চট্টগ্রামের সাফল্য
পরবর্তী নিবন্ধমাইলসের হামিনের নতুন পথচলা শুরু