পটিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রয়াত নেতা সামশুল আলম মাস্টারের স্ত্রীকে গুলি করে হত্যা করেছেন মাঈনুদ্দীন মোহাম্মদ মঈনু (৩০) নামে তাদের এক ছেলে। ঘটনার পর মা জেসমিন আকতারকে (৫৫) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বোন শায়লা শারমিন নিপার সামনেই মায়ের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। নিহত জেসমিন পটিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রয়াত সামশুল আলম মাস্টারের স্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া পৌর সদরের ৫ নং ওয়ার্ড সবজারপাড়া এলাকায় নিজ বাসার দ্বিতল ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ছেলে মাঈনুদ্দীন পালিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেসমিন আকতারের লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই সামশুল আলম মাস্টার মারা যান। তিনি পটিয়া পৌরসভার মেয়র ছিলেন। মৃত্যুর পর থেকে ছেলে মাঈনুদ্দীন টাকা-পয়সা ও সম্পত্তি নিয়ে মাকে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করতেন বলে প্রতিবেশীরা জানান।
সরেজমিনে গিয়ে এবং প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত ছেলে মাঈনুদ্দীন মায়ের ব্যাংক হিসাব তার নামে করে দেয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মা জেসমিন ও বোন শারমিন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফিরেন।
প্রতিবেশী শেলী আকতার জানান, দুপুর সোয়া ১টার দিকে তিনি বাড়িতে গুলির আওয়াজ শুনতে পান। এ সময় তিনি পুকুরে গোসল করছিলেন। বাড়িতে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনে দ্রুত ঘরে গিয়ে দেখেন জেসমিন আকতার বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে মেয়ে নিপাসহ প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পটিয়া জেনারেল হাসপাতাল, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পটিয়া থানা পুলিশ ঘরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এদিকে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হকসহ একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরপর ডিবি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ১টি এয়ারগান এবং ২টি পিস্তলের গুলি উদ্ধার করে। এর মধ্যে একটি ব্যবহৃত ও অন্যটি অব্যবহৃত।
তিনি জানান, মাঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় ২টি অস্ত্র মামলা এবং পটিয়া থানায় একটি মারামারির মামলা রয়েছে। সে একজন মাদকসেবী।
জাপার পটিয়া অফিস থেকে পিস্তল উদ্ধার : এদিকে ছেলের গুলিতে মা খুনের ঘটনায় জাতীয় পার্টির পটিয়া অফিস থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টায় এ অস্ত্রটি পটিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে। তবে এই অস্ত্রটি হত্যার ঘটনায় ব্যবহার হয়েছিল কিনা এখনো নিশ্চিত নয় পুলিশ ।
পটিয়া সার্কেল (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) তারিক রহমান, পটিয়া থানার ওসি রেজাউল করিম মজুমদার ও ওসি (তদন্ত) রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা জাপার অফিসে তল্লাশি চালায়। ওই সময় পিস্তলটি অস্খুজে পায়।












