ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০

শত শত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকা বহু মানুষ, ভূমিকম্পের পর ২১৪ আফটারশক

| রবিবার , ২৮ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

ভেনেজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভয়াবহ এ দুর্যোগে তিন হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছে বলে দেশটির সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। ধসে পড়া শত শত ভবনের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা থাকায় উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আর স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের বাইরে অপেক্ষায় রয়েছে হাজারো পরিবার।

ভয়াবহ ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের উত্তরের ডজনখানেক শহর লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়ায় অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে আহতদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই কয়েকশ আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মী দেশে পৌঁছেছেন এবং আরও অনেকে আসার পথে রয়েছেন।

স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকালে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর উত্তরের উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান যতই এগোচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর বিডিনিউজের।

লা গুয়াইরার বাসিন্দা নাতাশা দিয়াজ বিবিসিকে বলেন, একটি শপিং মল ধসে পড়ার পর তার ২২ ও ২৩ বছর বয়সি দুই মেয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন, তারা সেখানে ম্যানিকিউরিস্ট হিসেবে কাজ করতেন। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, ওরা বন্ধুদের সাথেই ছিল। আমি শুধু ওদের ফিরে পেতে চাই। আমার বিশ্বাস ওরা বেঁচে আছে। ওরা ছাড়া আমার আর কেউ নেই।

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান হোর্হে রদ্রিগেস গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, নিহতের সংখ্যা ৯২০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনো অন্তত ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ভাই ও দেশের এ শীর্ষ আইনপ্রণেতা জানান, কেবল লা গুয়াইরা থেকেই এ পর্যন্ত ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেস বলেন, কয়েক ডজন মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তারা যে আবারও প্রিয়জনদের বুকে জড়িয়ে ধরতে পারছেন, এটাই আমাদের বড় আনন্দ। তিনি জানান, জোড়া ভূমিকম্পের পর এ পর্যন্ত ২১৪ বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে শত শত ভবন এবং হাজারেরও বেশি অবকাঠামো আংশিক বা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলো আহত রোগীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। চিকিৎসক পেড্রো হাভিয়ের ফার্নান্দেজ জানান, দুর্যোগের আগে থেকেই ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র ঘাটতি থাকায় এ মহাসংকট মোকাবিলা করা তাদের জন্য অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তাছাড়া যোগাযোগ বিপর্যয় ও ভাঙা রাস্তার কারণে শুরুতে উদ্ধারকর্মীদের খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে হয়েছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সাহায্য আসতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, মেঙিকো ও সুইজারল্যান্ডের বিশেষ উদ্ধারকারী দলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারের অনুদানসহ যুদ্ধজাহাজ ও পরিবহন বিমান মোতায়েন করেছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান জান এগেল্যান্ডের বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও বিনিয়োগের অভাবে ভেনেজুয়েলার জরাজীর্ণ অবকাঠামো এই জরুরি পরিস্থিতির জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না।

বিবিসি লিখেছে, এই কঠিন সময়ে লা গুয়াইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তিন ভাইবোনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ভেনেজুয়েলাবাসীর মনে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফের সংগঠক গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক
পরবর্তী নিবন্ধবায়েজিদে শটগান ও কার্তুজসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার