সাফ উইমেন’স ফুটসালে বাংলাদেশের শুরুটা হলো দারুণ। একেবারে আনকোরা দল, অধিকাংশই ফুটসালে নতুন, তবুও প্রথমার্ধেই ভারতকে চেপে ধরা সাবিনা–নীলারা আধিপত্য ধরে রাখেন দ্বিতীয়ার্ধেও। দারুণ জয়ে প্রথমবারের মতো সাফ উইমেন’স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের শুরুটাও হলো জয়ের হাসি দিয়ে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ননথাবুরি হলে গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের বিপক্ষে ৩–১ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে দল এগিয়ে ছিল ২–০ ব্যবধানে। চলতি আসরে ভারতকে প্রথম হারের তেতো স্বাদ দিল বাংলাদেশ। মালদ্বীপকে ১১–১ গোলে উড়িয়ে আসর শুরু করেছিল ভারত। বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম কারিগর অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার জোড়া গোলে বাংলাদেশ প্রথমার্ধে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। দুটি গোলের যোগানদাতাই ছিলেন কৃষ্ণা রাণী সরকার। ফুটসালে আক্রমণ ও রক্ষণ একসঙ্গে সামলাতে হয়। সাবিনা গোলের পাশাপাশি রক্ষণও সামলেছেন। ধারাভাষ্যকার ম্যাচের ধারাভাষ্যের চেয়ে সাবিনার ক্যারিয়ার ও ফুটবলার হিসেবে গুণাগুণের বেশি বিবরণ দিয়েছেন। গোছালো আক্রমণ থেকে সপ্তম মিনিটে গিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের একজনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে কৃষ্ণা রানী সরকারকে পাস বাড়িয়ে ডান দিক দিয়ে সার্কেলে ঢুকে পড়েন সাবিনা খাতুন। কৃষ্ণার ফিরতি পাস নিখুঁত টোকায় জালে জড়িয়ে দেন অধিনায়ক। সাবিনা–কৃষ্ণা জুটির বোঝাপড়ায় ত্রয়োদশ মিনিটে ব্যবধান হয় দ্বিগুণ। ডান দিক থেকে কৃষ্ণার কোনাকুণি পাস টোকায় জালে জড়িয়ে দেন গোলমুখে থাকা সাবিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের উপর ছড়িয়ে ঘোরানো বাংলাদেশ ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় ৩১তম মিনিটে। এবার পাল্টা আক্রমণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। শেষ দিকে ভারত ব্যবধান কমানো একমাত্র গোলটি পায়। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে হওয়া এই প্রতিযোগিতায় শনিবার ভুটানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় সতীর্থদের প্রশংসায় ভাসান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তিনি বলেন,‘প্রথমত, ধন্যবাদ, কঠিন একটা ম্যাচ ছিল। ভারতের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন, কিন্তু আমাদের মেয়েরা আসলেই ভালো খেলেছে। এজন্য আমি তাদের সাধুবাদ জানাই। সমর্থক যারা আজ মাঠে এসেছেন আমাদের সমর্থন দিতে, তাদেরও ধন্যবাদ।’ ২০১৮ সালে এই থাইল্যান্ডেই এশিয়ান ফুটসালের বাছাই খেলেছিল বাংলাদেশ নারী দল। সাত বছর পর আবার আন্তর্জাতিক ফুটসালে খেলার সুযোগ পেল তারা।












