তীব্র রাজনৈতিক চাপ আর জনপ্রিয়তা কমার মুখে যুক্তরাজ্যের কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদ ও ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে গতকাল পদত্যাগ করেছেন। স্টারমার তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বের হয়ে জনসম্মুখে পদত্যাগের এ ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। স্টারমার জানান, তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা এদিন সকালেই (স্থানীয় সময়) রাজা চার্লসকে জানিয়েছেন। তারা ফোনে কথা বলেছেন।
স্টার্মারের পদত্যাগে ব্রিটেনের রাজনীতি ফের টলমল। এই নিয়ে গত এক দশকে ৬ জন প্রধানমন্ত্রী ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়লেন। তবে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেও এখনই সরকার বদলাচ্ছে না ব্রিটেনে। বিবিসি জানিয়েছে, স্টার্মার লেবার পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিকে একটি সময়সূচী নির্ধারণ করতে বলেছেন। এই সময়সূচীতে ৯ জুলাই পার্টির পরবর্তী নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন পর্ব শুরু হবে আর গ্রীষ্মকালীন অবকাশের মধ্যে তা শেষ হবে। এর অর্থ দাঁড়াবে সেপ্টেম্বরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগেই যুক্তরাজ্য একজন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টি নতুন নেতা পাবে। তার আগ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাবেন বলে স্টারমার জানিয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে পালামেন্টে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ সেই দলের নেতাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। বর্তমানে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে স্টারমারের লেবার পার্টির বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। এদিকে, স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পরই তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামবেন বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন দলটির প্রভাবশালী নেতা অ্যান্ডি বার্নাম। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্টারমারের অবদানকে স্মরণ করে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বিদায়ী এই মেয়র জানান, তিনি নিজেকে এই পদের জন্য যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। বিবৃতিতে বার্নাম লিখেছেন, ‘কিয়ার স্টারমার আমাদের দেশের জন্য বিশাল অবদান রেখেছেন এবং এমন একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে তার নেতৃত্ব ও নিষ্ঠার জন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
উল্লেখ্য, স্টার্মার যে ইস্তফা দিতে পারেন, সেই জল্পনা ছিলই। ঘরে–বাইরে চাপ বাড়ছিল তার উপর। আগামী নির্বাচনে তার নেতৃত্ব নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছিল না লেবার পার্টি। এমনকি, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও রবিবার জানিয়ে দেন, স্টার্মার ইস্তফা দিতে চলেছেন।
পদত্যাগের ঘোষণার সময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় চাকরি’ বলে উল্লেখ করেছেন স্টার্মার। জানিয়েছেন, এ বার তিনি অন্য কাজে মন দেবেন। তার কথায়, ‘দেশের সবচেয়ে বড় চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর আমি এ বার আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটায় মন দেব। কী সে কাজ? সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীর শ্রেষ্ঠ স্বামী হয়ে ওঠার চেষ্টা করব এ বার। ভাল হোক বা খারাপ, সব সময়ে ও আমার পাশে থেকেছে। এ ছাড়া, আমি আমার সন্তানদের শ্রেষ্ঠ বাবা হয়ে উঠব। ওরাই আমার গর্ব, আমার আনন্দ।’ কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন স্টার্মার। নিজের বক্তব্য শেষ করে তিনি স্ত্রীকে আলিঙ্গন করেন এবং ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ঢুকে যান।
ঋষি সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে ২০২৪ সালে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ব্রিটেনে ক্ষমতায় এসেছিল লেবার পার্টি, নেতৃত্বে ছিলেন স্টার্মার। কিন্তু ধীরে ধীরে ব্রিটেনে তার জনপ্রিয়তা কমেছে। অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে পারেননি স্টার্মার। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ বা অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে জনগণকে খুশি করতে পারেননি তিনি। দু’বছরের মাথায় প্রধানমন্ত্রীর পদ তাকে ছেড়ে দিতে হল। ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পদত্যাগ প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই তিনি সপ্তাহান্তে ছুটিতে গিয়েছিলেন। ফিরে সপ্তাহের প্রথম কাজের দিনে ইস্তফার কথা ঘোষণা করলেন।











