বোয়ালিয়াখালের ভাঙনে বিলীন হতে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা

ঝুঁকিতে মসজিদ-কবরস্থানও

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ২১ জুন, ২০২২ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়ার আমিরাবাদে বোয়ালিয়াখালের ভাঙনে বিলীন হতে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা। এতে ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় জামে মসজিদ ও সংলগ্ন কবরস্থান। ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পশ্চিম আমিরাবাদ রোকেয়ার বর পাড়া এলাকায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে চলতি বর্ষায় খালের গর্ভে বিলীন হতে পারে চলাচলের রাস্তা, মসজিদ ও কবরস্থান।

জানা যায়, আমিরাবাদ স্কুল রোডটি উপজেলা সদর বটতলী স্টেশন হতে ডলু, টংকাবতী ও বোয়ালিয়া খালের সংযোগস্থল তিন খালের মুখ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কের শেষ সীমান্তে রোকেয়ার পাড়া এলাকায় বোয়ালিয়াখালে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিন খালের মুখ পার হলেই সাতকানিয়া উপজেলার গারাঙ্গিয়া ও বারদোনা এলাকা। ওইসব এলাকার লোকজনের যাতায়াতও এ সড়কে। তিন খালের মুখে রয়েছে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো। এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে খালের দু’পাড়ের লোকজন যাতায়াত করেন। তিন খালের মুখে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, পশ্চিম আমিরাবাদ রোকেয়া বর পাড়া এলাকায় বোয়ালিয়াখালের ভাঙনে ইতোমধ্যে চলাচলের রাস্তার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইস্থানে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। চলতি বর্ষায় খালের ভাঙন ঠেকাতে না পারলে বিলীন হয়ে যেতে পারে চলাচলের রাস্তাটি, মসজিদ ও কবরস্থান।

রোকেয়া বর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোস্তাক আহমেদ জানান, ১৯০৪ সালে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বেড়া, কাঠ, বাঁশ ও মাটি দিয়ে প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর সেমিপাকায় রূপান্তর করা হয়। কয়েকবার সংস্কার হলেও কালের বিবর্তনে বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে কয়েকবছর আগে গ্রামবাসীর উদ্যোগে ষাট লক্ষ টাকা ব্যয়ে মসজিদটি পুণর্নির্মাণ করা হয়। সমপ্রতি বোয়ালিয়া খালের প্রায় ২০ ফুট গভীর ভাঙনে চলাচলের রাস্তা, মসজিদ ও প্রাচীন কবরস্থান অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে। এলাকাবাসীর অক্লান্ত পরিশ্রমে নির্মিত মসজিদটি রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। স্থানীয় ইউপি সদস্য হোছাইন মুহাম্মদ শারপু জানান, বোয়ালিয়াখালে ভাঙনের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে চলতি বর্ষায় খালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে চলাচলের রাস্তা, মসজিদ ও কবরস্থান। ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি দ্রুত দৃশ্যমান সংস্কার কাজ শুরু হবে। লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী ইফরাদ বিন মুনীর জানান, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রম কার্যকরী পরিষদের সভা
পরবর্তী নিবন্ধবিভিন্ন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা