ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ধর্ষণ চেষ্টার পর বেয়াইনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বেয়াইয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বেয়াই মোহাম্মদ সাবাকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহত বেয়াইন অভিযুক্ত সাবার মেয়ের শাশুড়ি হন। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবা তাঁর বেয়াইনকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত শুক্রবার বিকেলে বেয়াইন বাড়ির অদূরে বিল থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। নির্জন স্থানে তাঁকে একা পেয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাবা। বেয়াইন বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সাবা তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহটি পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের ভেতর লুকিয়ে রেখে পালিয়ে যান বেয়াই। এদিকে, সন্ধ্যা হয়ে গেলেও গরু নিয়ে ঘরে না ফেরায় বেয়াইনকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাঁশঝাড়ের ভেতর তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকাবাসী জড়ো হয়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত মোহাম্মদ সাবাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।
বাড়ির সর্দার মোহাম্মদ ইউনুস ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ অভিযুক্ত সাবা আমাদের কাছে স্বীকার করেছে সে নিজেই তার বেয়াইনকে ধর্ষণ চেষ্টার পর গলা টিপে হত্যা করেছে। এমন জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।’ নিহতের পিতা বলেন, ‘আমার মেয়েকে পশুর মতো ধর্ষণচেষ্টা করে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। খুনি সাবার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।’ নিহতের ননদ বলেন, সাবা বাড়িতে এসে তার বেয়াইনকে বিরক্ত করতো। তাকে না আসার জন্য অনেকবার বলা হয়েছিল।’ এদিকে, এলাকাবাসী এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘাতক সাবার সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবি তুলেছেন। ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।














