বিশ্বমেধার মঞ্চে লাল-সবুজ : ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ

| সোমবার , ৩ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:১০ পূর্বাহ্ণ

জ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর এই দুনিয়ায় জ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় যারা এগিয়ে থাকবে তারাই বিশ্ব শাসন করবে। তাই আমাদের দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মকে সম্পদে পরিণত করতে হলে প্রাথমিক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সব পর্যায়ে জ্ঞান ও মেধার চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

আর এই সৃজনশীল কাজটিই হাতে নিয়েছেন একজন সফল উদ্যোক্তা ও স্বনামধন্য ইংরেজী শিক্ষক মো. তানভীরুল হক।তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে কলেজে অধ্যাপনা করছেন এবং ইংরেজী গ্রামার ও ভাষা বিষয়ক ৫০ টিরও বেশী বই রচনা করেছেন।

তিনি বিশ্বমঞ্চে জ্ঞান বিষয়ক প্রতিযোগিতায় আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা,চীন,জাপান,মেক্সিকো,চিলি, মালয়েশিয়া,ইন্দোনেশিয়া,ভিয়েতনাম,মিসর,সিংগাপুর,থাইল্যান্ড,ফিলিপিনস এর মত বহু উন্নত দেশের শিশু কিশোরদের পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের শিশুকিশোরদের, যারা মেধার লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে মাতৃভূমির লালসবুজ পতাকা।

নিজকন্যা তাহিয়ার বিশ্বঅলিম্পিয়াডে বেস্ট এওয়ার্ড প্রাপ্তি থেকে প্রাণিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অলিম্পিয়াড আয়োজনের সহযোগী সংগঠন International Olympiads Bangladesh .
International Olympiads Bangladesh: এটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত একটি শিক্ষা ও জ্ঞানমূলক একটি সংগঠন যা বিশ্বের প্রথম শ্রেণীর প্রায় ৫০টি অলিম্পিয়াড সংগঠনের অফিসিয়াল পার্টনার রুপে স্বীকৃত।এর মধ্যে রয়েছে Genius Olympiad (USA), Copernicus Olympiad (USA), Olympiad USA, AmerAsian Tesla Olympiad (USA), SIMCC (Singapore), Young Master Challenge (UK), IWISE (UK), Xpertstem (UK), GLOW Olympiad, ELO (Jordan), Unicep (Australia), Bright Education (Cambodia), TMP(Malaysia), TIMO (Thailand), ICE (Thailand), TIBMOC (Thailand), Crest (India), Adept & Koala (HongKong), OCSO (Indonesia) সহ আরও অনেক অলিম্পিয়াড সংগঠন। ইতোমধ্যে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, মিসর, জর্দান, সিংগাপুর, চীন, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও জাপানে অত্যন্ত সফলভাবে বিভিন্ন অলিম্পিয়াডে দেশের শতশত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এই সংগঠন।
কেন এই প্রতিযোগিতা?
এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়—এটি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে বাংলাদেশের গৌরব তুলে ধরার একটি অসাধারণ সুযোগ! পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অর্জন করতে পারবে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান স্বীকৃতি।

উপরন্তু ভবিষ্যতে বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা স্কলারশীপের ক্ষেত্রে এই অলিম্পিয়াড সার্টিফিকেট Extra Curriculum Activity রুপে বিশেষ বিবেচনা লাভ করবে।সবকিছু মিলে আন্তর্জাতিক পরিসরে ভবিষ্যত প্রজন্মের ক্যারিয়ার গঠনের স্বর্ণদ্বার খুলে দেবে এই অলিম্পিয়াড।
অংশগ্রহণের যোগ্যতা:
ছেলেমেয়েদের একেকজনের একেক বিষয়ে পারদর্শিতা রয়েছে।তাই ইংরেজী, সায়েন্স, ম্যাথ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, রোবোটিকস,কোডিং,সাইবার থেকে শুরু করে আর্টস, বিজনেস সকল বিষয়ের অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করতে পারবে।এই অলিম্পিয়াডগুলোতে ক্লাস ওয়ান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করতে পারে।যে যে বিষয়ে পারদর্শী সে সেই বিষয়ে প্রতিযোগিতা করবে।একজন ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা বিশ্বের ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সাথেই প্রতিযোগিতা করবে।

ইন্টারন্যাশনাল পর্যায়ে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রথমে বাংলাদেশে একটি ন্যাশনাল রাউন্ড প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।এই রাউন্ডে যারা কোয়ালিফাই করবে যেমন: ডায়মন্ড, গোল্ড, প্লাটিনাম, সিলভার এবং ব্রোঞ্জ লাভ করবে তারাই কেবল গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।তবে সকল অংশগ্রহণকারীরা একটি সার্টিফিকেট পাবে।মেধাবী অস্বচ্ছল প্রতিযোগীদের জন্য অনেক অলিম্পিয়াডে রয়েছে ফ্রি বা আংশিক স্কলারশীপে অংশগ্রহণের সুযোগ।
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি :
এখানে যারা রেজিস্ট্রেশন করবে তাদের জন্য অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটি থেকে নির্দিষ্ট সিলেবাস ও নমুনা প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়।সে অনুযায়ী প্রতিযোগী প্রস্তুতি নেবে।এর জন্য International Olympiads বিশেষ প্রশিক্ষণ করাবে এবং মক টেস্ট নেবে।মোট কথা প্রদত্ত সিলেবাসের আলোকে সার্বিক প্রস্তুতিতে সাহয্য করবে।
অলিম্পিয়াডের পরীক্ষার পদ্ধতি :
কিছু অলিম্পিয়াডে অফলাইন এবং কিছু অলিম্পিয়াডে অনলাইন পরীক্ষা হয়।ইংরেজী ভার্সানে লিখিত, এমসিকিউ , প্রেজেন্টেশন, প্রোবলেম সলভ ইত্যাদি বিভিন্ন উপায়ে যোগ্যতা নিরুপণ করা হয় ।২ থেকে ৬ দিন ব্যাপী হতে পারে এই প্রতিযোগিতা।৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রকাশ করা হয় ফলাফল।
কমপক্ষে ৬০ শতাংশ নম্বর পেলে ব্রোঞ্জ, ৭০ পেলে সিলভার, ৮০ নম্বর পেলে গোল্ড, ৯০ এর উপর পেলে ডায়মন্ড এভাবে এওয়ার্ড প্রদান করা হয়।আর ১০০ নম্বরে ১০০ পেলে হবে PERFECT SCORER !
অলিম্পিয়াড প্রতিযোগিতায় সাফল্য:
ছোট্ট মেধাবীরা এযাবত দারুণ সব সাফল্য দেখিয়ে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, জাপান থেকে ডায়মন্ড, গোল্ড এওয়ার্ড নিয়ে এসেছে।চট্টগ্রামের ছোট্টমণি তাহিয়া (Albarto Coto Abacus Olympiad), জারিফুল আবরার (International Science Olympiad Competition of Southeast Asia ),রোদশী ভৌমিক (American Mathematics Olympiad), শরীফ তাকবির আহমেদ (Singapore Math Challenge)-এ প্রতিযোগিতায় ১০০% নম্বর পেয়ে Perfect Scorer হওয়ার দুর্লভ গৌরব অর্জন করেছে।সম্প্রতি সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত Singapore International Math Olympiad- অংশগ্রহণকারী ১২ জনের মধ্যে ৭ জন গোল্ড এওয়ার্ড লাভ করেছে।
সবশেষে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. তানভীরুল হক বলেন, আমরা এবার চাই আমাদের আয়োজিত অলিম্পিয়াডে বিশ্বের অন্যরা অংশগ্রহণ করুক।এরই মধ্যে গত জুন মাসে আমাদের International Olympiads এর আয়োজনে মালয়েশিয়াতে English World Cup এর আয়োজন করেছি।সম্প্রতি সিংগাপুর থেকে আমরা Brands For Good Awards 2026 লাভ করেছি।
সারাবিশ্বের উন্নত নানা দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের সন্তানেরা যখন বিজয় ছিনিয়ে আনে এবং বিশ্বমঞ্চে লাল সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরে তখনকার উল্লাস অনুভূতি বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়! এতে করে বাংলাদেশকে নতুন পরিচয়ে চিনছে গোটা পৃথিবী।আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির গৌরব ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আমরা প্রমাণ করতে চাই যে বাংলাদেশও বিশ্ব অলিম্পিয়াড আয়োজন করতে পারে!আর সঠিক সুযোগ পেলে আমাদের সন্তানরাও বিশ্বের যেকোন মঞ্চে হতে পারে বিজয়ী। বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন https://www.facebook.com/InternationalOlympiadsBD এই লিংকে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে ৯০ কেজি নিষিদ্ধ আফ্রিকান মাগুর মাছ জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধ‘আবদুল গাফফার খান ছিলেন আদর্শবাদী রাজনীতিক’