জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৫ রান। প্রথম দুই বলে স্ট্রাইক পেলেন না রুবাই ইসলাম রিজন। ওই প্রান্তে যখন গেলেন, ৪ বলে করতে হবে ১৪ রান। বাউন্ডারি মেরে তিনি বাঁচিয়ে রাখলেন দলের আশা। পরের বলে এলো ২ রান। আমির হামজার পঞ্চম বলে ছক্কা! সমীকরণ নেমে এলো এক বলে ২ রানে। শেষ বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারলেন না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দলের শেষ দিকের ব্যাটসম্যান। তবু পড়িমড়ি করে দৌড়ে প্রান্ত বদল করলেন রিজন ও শেখ আতিকুর রহমান। সমান হয়ে গেল দুই দলের স্কোর, টাই হয়ে গেল ম্যাচ। শেষের এমন নাটকীয়তার পর ওমান ক্রিকেট একাডেমি মাঠে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় যুব ওয়ানডেতে সমান ৩০৪ রান করে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। যুব ওয়ানডেতে এ নিয়ে তৃতীয়বার ‘টাই’ হলো বাংলাদেশের ম্যাচ। ২০০২ সালে কানাডা ও ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘টাই’ করেছিল তারা। ম্যাচ টাই হওয়ায় চার ম্যাচ সিরিজে এখন ১–০ এগিয়ে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে রিজনের দারুণ বোলিংয়ে জয় পায় তারা। এবার ব্যাট হাতে দলকে পরাজয়ের মুখ থেকে উদ্ধার করলেন রিজন। বল হাতেও এদিন ৪ উইকেট নেন তিনি। ম্যাচটি জিতলে যুব ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড হতো বাংলাদেশের। ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩০৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড তাই অক্ষতই রইল। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় তৃতীয় পাওয়ার প্লে। শেষ ১০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৯১ রান করে স্বাগতিক যুবারা। বিপরীতে ৬ উইকেট হাতে রেখে ৬০ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান। কিন্তু সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। এর আগে বড় লক্ষ্যে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দারুণ। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে তারা করে ফেলে ৭০ রান। আগের ম্যাচে খালি হাতে ফেরা আবদুল্লাহ আল মুহি এবার করেন ৯ চারে ৪৫ বলে ৫০ রান।
শুরুর ছন্দ ধরে রাখেন আল আমিন হোসেন রনি ও আহসান আল মুমিন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে দুজন মিলে ৭৪ বলে যোগ করেন ৮০ রান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৮ চার ও ২ ছক্কায় ৫৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস খেলেন আল আমিন। প্রথম ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা আহসান এবারও মিডল–অর্ডারে রাখেন দায়িত্বশীলতার ছাপ। ৫ চারে ৬৬ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। রাকিবুল হাসান, অধিনায়ক ফরিদ হাসান ও রবিউল ইসলাম অনিক বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। ফলে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। নবম ব্যাটার হিসেবে রিজন যখন ক্রিজে যান, ২৮ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪০ রান। কিছুক্ষণ পর শাকিল খানও ফিরে গেলে পুরো দায়িত্ব পড়ে রিজনের কাঁধে। ৪৮তম ওভারে একটি ছক্কা মেরে সমীকরণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন তিনি। তবে ৪৯তম ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১ রান খরচ করে ম্যাচ আফগানদের দিকে টেনে নেন ইমরান মোহাম্মাদি। তবে শেষ ওভারে দেখা যায় রিজনের বীরত্ব। ৪ বল পেয়ে দলকে প্রায় নিশ্চিত পরাজয়ের মুখ থেকে বাঁচান এই পেসার। শেষ পর্যন্ত ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন রিজন। ম্যাচের প্রথমভাগে আফগানিস্তানের শুরুটাও ছিল উড়ন্ত। প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে তারা করে ৭৪ রান। মাঝের পাওয়ার প্লেতে অবশ্য রাশ টেনে ধরে বাংলাদেশ। ৩০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান নিতে পারে আফগানরা।
তবে শেষের ঝড়ে তিনশ পেরিয়ে যায় তারা। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। শুরুতে ঝড় তোলা ফারিদউল্লাহ ইহসাস ৯ চারে ৪৭ বলে করেন ৫১ রান। চার নম্বরে নেমে নোমান সালারজাই খেলেন ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৯০ বলে ৭৬ রানের ইনিংস। শেষ দিকে তাহির সারওয়ারি ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩১ বলে ৪৩ এবং আমির হামজা ১ চার ও ২ ছক্কায় ১১ বলে ২১ রানের ক্যামিও খেললে তিনশ পেরিয়ে যায় আফগানিস্তান। তবু শেষ পর্যন্ত মেলেনি জয়। বাংলাদেশের পক্ষে ৯ ওভারে ৭২ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন রিজন। একই মাঠে বুধবার সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে লড়বে দুই দল।












