ফুট ওভারব্রিজ নেই, তাই যত দুর্র্ভোগ

১শ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা ও ওভারপাস থেকে আসছে না সুফল

আজাদী প্রতিবেদন | মঙ্গলবার , ৪ জানুয়ারি, ২০২২ at ৬:৪৯ পূর্বাহ্ণ

আটটি ফুট ওভারব্রিজের জন্য নগরীর যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র দেড় থেকে দুই কোটি টাকার একটি ফুট ওভারব্রিজের অভাবে ১শ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তা এবং ওভারপাসের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। নগরীর দেওয়ানহাট মোড়ের যান চলাচল গতিশীল করতে প্রায় ৯০ কোটি টাকা খরচ করে ডিটি রোড প্রশস্তকরণ এবং প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করে একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তার উপর দিয়ে হাত উঁচিয়ে গাড়ি থামিয়ে মানুষের পারাপার যান চলাচলের গতি সব আয়োজনই ভণ্ডুল করে দিচ্ছে।
নগরীর জিইসি মোড়ে দুটি, লালখান বাজারে দুটি, বাদামতলী মোড়ে দুটি এবং ইপিজেড মোড়ে নতুন করে একটি ফুট ওভারব্রিজ জরুরি হয়ে উঠেছে। অবশ্য সিডিএ কর্তৃপক্ষ লালখান বাজারে দুটি এবং ইপিজেড মোড়ে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাস্তা প্রশস্ত করেও মিলছে না সুফল। রাস্তার উপর দিয়ে হাত উঁচিয়ে মানুষের পারাপার নগরীর ট্রাফিক সিস্টেমের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। একই সাথে মানুষের ঝুঁকিও চরম আকার ধারণ করছে। রাস্তায় গাড়ির পরিমাণ প্রতিদিন বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের সংখ্যাও। কিন্তু সেই অনুপাতে রাস্তা পারাপারের সুবিধা না বাড়ার কারণে সংকট প্রকট হয়ে উঠছে। এতে করে রাস্তা প্রশস্ত কিংবা ওভারপাশ নির্মাণ করার সুফল থেকেও মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে।
নগরীর যান চলাচলে গতিশীলতা তৈরির জন্য প্রায় ৯০ কোটি টাকা খরচ করে অলংকার মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়। সিডিএ এই রাস্তা সম্প্রসারণের সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখে পড়লেও সবকিছু ম্যানেজ করে রাস্তাটি ৭২ ফুট চওড়া করে সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি নির্মাণের পরও দেওয়ানহাট মোড়ে তীব্র যানজট লেগে থাকতো। পুরো এলাকা স্থবির হয়ে থাকতো যানজটে। এই অবস্থার উত্তরণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দেওয়ানহাটে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করে নতুন করে একটি ওভারপাস নির্মাণ করে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ডবলমুরিং থানার সন্নিকট থেকে দেওয়ানহাটের উপর দিয়ে ধনিয়ালাপাড়া পর্যন্ত ১৮৫০ ফুট বা ৫৬০ মিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির প্রস্থ রাখা হয়েছে ২৮ ফুট বা সাড়ে আট মিটার। ডিটি রোডের গাড়ি চলাচলের জন্য এই ওভারপাস নির্মাণ করা হয়। বলা হয় যে, ডিটি রোডের গাড়ি ওভারপাস দিয়ে উপরে উঠে গেলে নিচের টাইগারপাস-আগ্রাবাদ রোডের গাড়ি চলাচলে প্রত্যাশিত গতিশীলতা তৈরি হবে। কিন্তু এত আয়োজনের পরও দেওয়ানহাট মোড়ের যান চলাচলে প্রত্যাশিত গতি আসেনি। প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি নগরীর ব্যস্ততম এই মোড়ে থমকে থমকে যান চলাচল করে।
দেওয়ানহাট মোড়ের মতো ব্যস্ততম একটি রাস্তায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ টাইগারপাস-আগ্রাবাদ রোডের গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পারাপার করে। রাস্তার মাঝে ডিভাইডার দেয়া থাকলেও তা লাফিয়ে পার হয় হাজার হাজার মানুষ। আর এতে করে এই রাস্তায় চলাচলকারী গাড়িগুলোকে প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়। এতে দেওয়ানহাটে দিনভর যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় একশ’ কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা এবং ওভারপাস তৈরি করা হলেও শুধুমাত্র একটি চতুর্মুখী ফুট ওভারব্রিজের অভাবে পুরানো সংকট থেকে গেছে। এখানে ওভারপাসের নিচ দিয়ে একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করে মানুষের রাস্তা পারাপারের পথ করে দিতে হবে। চার দিক থেকে মানুষের ওঠানামার পথ করে দিতে হবে। শুধু এপাড় ওপাড় করলে হবে না, দেওয়ানহাটের ডবলমুরিং থানা অংশে যেমন ডিটি রোড পারাপারের ব্যবস্থা রাখতে হবে তেমনি বিপরীত পাশের মসজিদের পাশ দিয়েও ডিটি রোড পারাপারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। চতুর্মুখী ফুট ওভারব্রিজ তৈরি হলে যে কোনো একদিক থেকে মানুষ ব্রিজের উপরে উঠে নিজের প্রয়োজন মতো দিকে নেমে পড়তে পারবেন। এতে করে নিচ দিয়ে এদিক ওদিক রাস্তা পারপারের জটলা থাকবে না। দেওয়ানহাটে প্রত্যাশিত গতি আনতে এর কোন বিকল্প নেই বলেও সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
একইভাবে জিইসি মোড়েও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করে সকাল থেকে গভীর রাত অব্দি। হাজার হাজার মানুষ এখানে রাস্তা পারাপারে মারাত্মক রকমের সংকটে পড়েন। এখানেও চতুর্মুখী একটি কিংবা দ্বিমুখী হলে দুইটি ফুট ওভারব্রিজ অত্যন্ত জরুরি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জিইসি মোড়ে একটি ফুট ওভারব্রিজ করার জন্য পিলার স্থাপন করেছিল। পিলারগুলোর কিছু অংশ এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু চাঁদাবাজদের উৎপাতে সেখানে ফুট ওভারব্রিজ নির্মিত হয়নি বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে সিডিএ কর্তৃপক্ষ প্রজেক্টটি বাতিল করে দেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, ওখানে সিটি কর্পোরেশন ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করবে।
লালখান বাজারের অবস্থা শোচনীয়। সকাল থেকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষকে এখানে রাস্তা পারাপার করতে হয়। এতে দ্রুতগতির গাড়িগুলোর গতি যেমন কমে যায়, তেমনি মানুষের ঝুঁকিও চরম আকার ধারণ করে। অবশ্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ লালখান বাজারে দুইটি ফুট ওভারব্রিজ করার প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে।
নগরীর বাদামতলী মোড়ের অবস্থাও খুবই নাজুক। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ব্যস্ততম সড়কের এই অংশটিতে রাস্তা পারাপার করে। কিন্তু কোনো ফুট ওভারব্রিজ না থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয় মানুষ। ট্রাফিক পুলিশকে অনেক সময় সিগন্যাল দিয়ে গাড়ি থামিয়ে মানুষকে পারাপার করাতে হয়। অধিকাংশ সময়ই শত শত গাড়ির ভিতর দিয়ে হাত উঁচিয়ে মানুষ রাস্তা পার হয়। অনেক সময় বাচ্চা কোলে নিয়ে পার হন বহু মা। নারী ও শিশুদের জন্য এক একটি মোড় যেন একটি একটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠে।
নগরীর ইপিজেড মোড়ে দুইটি ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। এখানে একটি ফুট ওভারব্রিজের অবস্থা বেশ নাজুক। নতুন করে অপর একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ জরুরি বলেও সূত্র জানিয়েছে।
সবকিছু মিলে নগরীতে প্রাথমিকভাবে ৮টি ফুট ওভারব্রিজ খুবই জরুরি। তবে চতুর্থমুখী করলে চারটি ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে এই প্রয়োজন মিটে। প্রতিটি ফুট ওভারব্রিজে দেড় কোটি টাকার মতো খরচ হয় বলেও সিডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন।
সিডিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী হাসান বিন শামস লালখান বাজারে দুইটি ফুট ওভারব্রিজের প্রকল্প গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা এলিভেটেড এঙপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ওখানে দুইটি ফুট ওভারব্রিজ করে দেবো। এছাড়া নগরীর ইপিজেড এলাকায়ও একটি ফুট ওভারব্রিজ করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরেলের জায়গায় সৌন্দর্যবর্ধন করতে আগ্রহী চসিক
পরবর্তী নিবন্ধবৃহত্তর চট্টগ্রামের ৩২ ইউপিতে ভোট কাল