প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরকে হারানোর ছয় বছর

| মঙ্গলবার , ৭ জুলাই, ২০২৬ at ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে হারানোর ছয় বছর পূর্ণ হলো গতকাল। ২০২০ সালের ৬ জুলাই ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। খবর বাংলানিউজের।

তার বিদায়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল দেশের সংগীতাঙ্গনে। তবে সময় পেরিয়ে গেলেও তার গাওয়া অগণিত কালজয়ী গান আজও সমানভাবে মুগ্ধ করে কোটি শ্রোতাকে।

চার দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনে এন্ড্রু কিশোর বাংলা চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানে গড়ে তুলেছিলেন এক অনন্য উচ্চতা। তার কণ্ঠে গান মানেই ছিল আবেগ, আবেদন ও জনপ্রিয়তার এক অনন্য সংমিশ্রণ। ক্যারিয়ারে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি।

অসংখ্য সুপারহিট ও কালজয়ী গানের জন্যই তিনি পেয়েছিলেন প্লেব্যাক সম্রাট উপাধি। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয়। তবে ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানটি তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক জনপ্রিয় গান দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য কণ্ঠ।

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তার গান সমানভাবে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্যারিয়ারে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এন্ড্রু কিশোর।

এছাড়া পেয়েছেন একাধিক বাচসাস পুরস্কার। তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর। সংগীতপ্রেমী মায়ের উৎসাহেই তার সংগীতচর্চার শুরু। স্বাধীনতার পর রাজশাহী বেতারের শিল্পী হিসেবে নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি সংগীতজগতে নিজের ভিত্তি তৈরি করেন। পরে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক গানে হয়ে ওঠেন এক অনন্য নাম।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআলিয়ঁস ফ্রঁসেজে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উৎসব ৯ ও ১০ জুলাই
পরবর্তী নিবন্ধসিএসইতে লেনদেন ১৬.৫৯ কোটি টাকা