আনোয়ারা উপজেলায় প্রেম করে বিয়ে করা এক কিশোরী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর পর হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা–এ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত কিশোরী হলেন, উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মোহাং এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিলের মেয়ে খাদিজা সুলতানা কাশপি (১৪)। পলাতক স্বামী একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মাঝির বাড়ির বাসিন্দা আব্দুস সালামের ছেলে মোহাম্মদ মারুফ (১৯)।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে পরিবারের অজান্তে প্রেমিক মারুফের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন কাশপি। বিয়ে করে দুই মাস আত্মগোপনে থাকার পর তারা মালঘর বাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। গত পাঁচ মাস ধরে তারা সেখানে স্বামী–স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় কাশপিকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নিয়ে যান মারুফ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে চিকিৎসকের ঘোষণা পাওয়ার পরই হাসপাতাল থেকে স্ত্রীর মরদেহ রেখে মারুফ পালিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্য একটি সূত্র জানায়, বিয়ের পর কয়েক মাস তাদের সংসার ভাল গেলেও এরপর থেকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দু জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও মান অভিমান তৈরি হয়। যার কারণে কাশপি রাগে ও অভিমানে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহতের মা শাহিনুর আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর মারুফ তাকে ফোন করে জানায় যে কাশপি অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত মেয়ের বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি কাশপিকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। মেয়ের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মারুফ তাকে জানান, কাশপি গলায় ফাঁস দিয়েছে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললে মারুফ তাকে ঘরের ভেতরে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর কাশপিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও মৃত্যুর খবর জানার পর সেখান থেকে পালিয়ে যান।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই কাশপির মৃত্যু হয়েছিল। তার গলার বিভিন্ন স্থানে আঘাত বা দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘরের ভেতরে আসবাবপত্র ও কাপড়চোপড় এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে ঘরে আত্মহত্যার জন্য ব্যবহৃত কোনো রশি বা এ ধরনের সামগ্রী পাওয়া যায়নি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’
এদিকে, অল্প বয়সে প্রেমের বিয়ে এবং মাত্র সাত মাসের দাম্পত্য জীবনের পর কিশোরী গৃহবধূর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।











