মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে গতকাল শুক্রবার সকালে গোড়ালি থেকে হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে যায় শহরের বেশ কিছু নিচু এলাকা। এতে দুর্ভোগ ও ভোগান্তি হয়েছে পথচারীদের। অবশ্য বৃষ্টি থামার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পানি নেমে যায়।
জানা গেছে, গতকাল ভোররাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বৃষ্টির গতি বেড়ে যায়। এরপর একটানা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা মুষলধারে বৃষ্টি হয়। এতেই তলিয়ে যায় কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, শুলকবহর, আগ্রাবাদ, ইছাইক্যার পুলসহ বেশ কিছু নিচু এলাকা। এখানে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। গতকাল ছিল ছুটির দিন। এরপরও জরুরি প্রয়োজনে বের হন লোকজন। সড়ক ডুবে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন তারা। কাতালগঞ্জ বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে শরীফ নামে এক পথচারী আজাদীকে বলেন, অল্প বৃষ্টি হলেই এখানে পানি জমে থাকে। এটা এখন স্বাভাবিক বিষয়।
পানি দিয়ে হেঁটে আসা রহিম নামে আরেক পথচারী বলেন, আমার বাসা পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায়। জরুরি কাজে অলি খাঁ যেতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বের হলাম। রিকশাওয়ালা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় হেঁটে আসছি। ময়লা পনি দিয়ে হেঁটে আসতে হচ্ছে। এতে চর্ম রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, গতকাল বিকেল ৩টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নগরে ১৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এদিকে আমবাগান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করে ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বসির আহম্মেদ হাওলাদার জানান, আজও শনিবারও অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকাঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ও কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুিট সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে। রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।












