প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ‘৩০০’ উইকেটের মাইলফলকে নাঈম

স্পোর্টস ডেস্ক | বুধবার , ২২ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

মাঠে নামার আগে মাইলফলক থেকে মাত্র ১ উইকেট দূরে ছিলেন নাঈম হাসান। বল হাতে নিয়ে অবশ্য খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি চট্টগ্রামের এই সন্তানকে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ইস্ট জোনের হয়ে ব্যক্তিগত ষষ্ঠ ওভারেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এই অফস্পিনার। দিন শেষে তার প্রাপ্তি ওই এক উইকেটই, ১৩ ওভারে ৪৬ রান খরচায়। সোমবার চলতি বিসিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে সেন্ট্রাল জোনের মুখোমুখি হয়েছে ইস্ট জোন। প্রথম দিন শেষে সেন্ট্রালের সংগ্রহ ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭২ রান। ইনিংসের ৪৩তম ওভারে নাঈমকে কাভারে ইনসাইড আউট শট খেলতে গিয়ে জাকির হাসানের হাতে ধরা পড়েন সাদমান ইসলাম। আর এতেই ১৪তম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট নিলেন নাঈম। সাবেক অধিনায়ক ও কোচ রাজিন সালেহ মনে করেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই নাঈমের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোয়নি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ১৪টি টেস্ট খেলেছেন নাঈম। তার প্রতিভা ও সামর্থ্য নিয়ে কোনো সন্দেহ না থাকলেও একই পজিশনে মেহেদী হাসান মিরাজের ধারাবাহিক উপস্থিতি সুযোগ সীমিত করে দিয়েছে বলে মনে করেন রাজিন। নাঈমকে কিছুটা ভাগ্যবঞ্চিত উল্লেখ করে রাজিন সালেহ বলেন, ‘আমি বলব ও দুর্ভাগা। ও ভালো বোলার অবশ্যই। তবে ওর সমতুল্য যে আছে, ওকেও দেখতে হবে। মিরাজও ভালো বোলার এবং পরীক্ষিত। ঐ জায়গায় নাঈম একটু দুর্ভাগা, সুযোগ কম পাচ্ছে। অবশ্যই সামনে সুযোগ আসবে, আশা করি সুযোগ পাবে এবং টেস্ট দলকে সার্ভিস দিবে।’ বাংলাদেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি ১২৩ ম্যাচে শিকার করেছেন ৬০১ উইকেট। দেশের ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ৬০০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। এই তালিকায় তার পরেই আছেন সানজামুল ইসলাম। বাঁহাতি এই স্পিনার ১১৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৪৪৯ উইকেট। আরেক স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৯৪ ম্যাচে শিকার করেছেন ৪৪০ উইকেট। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এনামুল হক জুনিয়র। তিনি ১১২ ম্যাচে পেয়েছেন ৪১৮ উইকেট। অন্যদিকে প্রয়াত মোশাররফ হোসেন ১০৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৮৩ উইকেট। এছাড়া অভিজ্ঞ স্পিনার নাবিল সামাদ ১১৩ ম্যাচে শিকার করেছেন ৩৭৮ উইকেট। আর পেসার মোহাম্মদ শরীফ ১১৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৭৪ উইকেট। এই তালিকায় আরও আছেন সাকলাইন সজীব, যিনি ৯৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৬৭ উইকেট। অলরাউন্ডার সোহাগ গাজী ১১৪ ম্যাচে শিকার করেছেন ৩৫৭ উইকেট। অন্যদের মধ্যে সোহরাওয়ার্দী শুভ ১০৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৩৪৮ উইকেট, ইলিয়াস সানি ৯৪ ম্যাচে পেয়েছেন ৩৩৮ উইকেট এবং পেসার আবু জায়েদ ১০৩ ম্যাচে শিকার করেছেন ৩১৮ উইকেট।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআইসিসি র‌্যাংকিংয়ে শারমিন, সোবহানার উন্নতি
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির দল ঘোষণা বিসিবির