খাগড়াছড়ির পাহাড়জুড়ে এখন আমের মুকুলের সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সবুজ পাহাড় যেন মুকুলের গালিচায় মোড়া। মধু মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে প্রকৃতিতে হাজির হয়েছে আমের মুকুল, আর বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর মিষ্টি ঘ্রাণ। জেলার বিভিন্ন উপজেলার আমবাগানে গাছে গাছে ফুটেছে মুকুল। এতে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন আম চাষিরা। বাগানে বাড়তি পরিচর্যা, সেচ ও রোগবালাই দমনে সতর্ক নজরদারি চালাচ্ছেন তারা। তবে আশার পাশাপাশি রয়েছে দুশ্চিন্তাও। পাহাড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে মুকুল ঝরে পড়ার শঙ্কা করছেন অনেক বাগানি।
খাগড়াছড়িতে আম্রপালি, দেশি কাঁচামিঠা, মল্লিকা, বারি–৪ ও বারি–১১ জাতের পাশাপাশি বিশ্বের দামী জাত সূর্যের ডিম, কিউজাই ও রেড পালমার আমও চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
খাগড়াছড়ির একাধিক আমচাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পর্যাপ্ত সেচ ব্যবস্থা না থাকায় খরার সময়ে মুকুল টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। তাদের মতে, সরকারি প্রকল্পের আওতায় ওয়াটার ইরিগেশন সিস্টেম অর্থাৎ আমবাগানে পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ আম ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হতো। খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়ি গ্রামের কৃষক মং গ্রীন লাইফ এগ্রো ফার্মের কর্ণধার মংশিতু মারমা বলেন, এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আমরা নিয়মিত পরিচর্যা করছি। কিন্তু বৃষ্টি না হলে বা তাপমাত্রা বেশি থাকলে মুকুল ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেচের স্থায়ী ব্যবস্থা হলে উৎপাদন আরও বাড়বে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ করেছেন প্রায় ১০ হাজার কৃষক। খাগড়াছড়ি কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ–পরিচালক, মো. নাসির উদ্দিন জানান, জেলার অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণগত মান আম চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।












