পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭টি খাল পলি ও কচুরিপানা জমে ভরাট হয়ে গিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ১০ গ্রামের সাড়ে তিন হাজার একর দুই ফসলী জমির চাষাবাদ। আমন মৌসুমে জলাবদ্ধতা আর বোরো মৌসুমে পর্যাপ্ত পানির অভাবে দিশেহারা প্রায় ২৫০০ কৃষক। অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে হাজার একর জমি। মৎস চাষিরাও হুমকির মুখে।
বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭টি খাল যথাক্রমে কাটাখালি খাল (৩ কিমি), ধামাই বিবি খাল (১ কিমি), গরুলুটা খাল (২ কিমি), কুমারখালি খাল (১ কিমি), কালাগাজী খাল (১.৫ কিমি), মতিয়ার খাল (২ কিমি) ও পেরোলা-বড়লিয়া সীমান্তবর্তী খালের (১.৫ কিমি) পানি দিয়ে আমন ও বোরো আবাদযোগ্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার একর জমি চাষ হয়। এতে ২৫০০ কৃষক চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। খালগুলো বড়লিয়া, পূর্ব বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, মেলঘর, কর্তলা, বেলখাইন, বাড়ৈকাড়া, পেরোলা, ওকন্যারা ও আশিয়া গ্রামের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ এসব খালের ওপর নানাভাবে নির্ভরশীল।
স্থানীয় ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৭/৮ বছর আগে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ খালগুলো খনন করেছিল। কিন্তু ড্রেজিংয়ের অভাবে গত ৩/৪ বছর ধরে পলি ও কচুরিপানা জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় খালগুলোর পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক নুরুল কবীর চৌধুরী জানান, আমার মৌরশী প্রায় ২০ একর জমি রয়েছে। আমরা বংশ পরম্পরায় এ জমিগুলোতে চাষাবাদ করে আসছি। বর্তমানে এলাকার ৭টি খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় আমাদের জমিগুলোতে কোনো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আমার মত এলাকার সব কৃষকের এখন একই অবস্থা। কৃষক সুনিল মল্লিক বলেন, সরকার যেখানে এক ইঞ্চি জায়গা খালি না রাখতে বলছে সেখানে বড়লিয়ায় দুই হাজার একরের বেশি জমিতে পানির অভাবে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে পড়েছে, তা ভাবতেই পারছি না। আমি এ ব্যাপারে আমাদের এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড ও কৃষি বিভাগের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, কিছু কিছু কৃষক পুকুর থেকে ও নানা উপায়ে পানি সংগ্রহ করে চাষাবাদ করলেও বেশিরভাগ কৃষকের সমস্যা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাসই করা যাবে না। আমি বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
কৃষক লীগের পটিয়া উপজেলা আহ্বায়ক ছৈয়দ নুরুল আবছার বলেন, বোরো মৌসুমে পানির অভাব আর আমন মৌসুমে খাল ভরাট হওয়ার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বড়লিয়ার কয়েক হাজার জমিতে চাষাবাদ হচ্ছে না। আমি বিষয়টি অবিলম্বে সুরাহা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি। পটিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্পনা রহমান বলেন, কৃষকদের সমস্যা দূর করার জন্য কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা এ মুহুর্তে বরাদ্দ না থাকার কথা জানিয়ে খাল খনন সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান। বড়লিয়ায় খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও কিছু জায়গায় পানি চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষকরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিন গিয়ে আমি কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা জেনেছি এবং সমস্যাগুলোর সত্যতা পেয়েছি।












