পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজার হবে সেরা পর্যটন কেন্দ্র

নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়

| মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, চলতি মাসে ঢাকাকক্সবাজার রুটে আরো এক জোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে।একই সঙ্গে দেশের অন্যতম আধুনিক কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনকে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। গত শনিবার সকালে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত যাত্রী ও পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। সেই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকার রেল যোগাযোগ আরো সমপ্রসারণ এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে। চলতি মাসেই নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু হলে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে, টিকিটের চাপও অনেকটা হ্রাস পাবে। এতে ঢাকাকক্সবাজার রুটে ভ্রমণ হবে আরো সহজ, আরামদায়ক ও সময়োপযোগী। রেল প্রতিমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার আইকনিক রেল স্টেশনকে শুধু একটি রেল স্টেশন হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনবান্ধব রেল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সে লক্ষ্যেই স্টেশনটির পরিচালনা ও সেবার মান আরো উন্নত করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকাকক্সবাজার রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সংবাদ নিশ্চয় আনন্দের। কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যাান প্রণয়নের উদ্যোগও নিয়েছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে যে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ আছে, তা পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও এ সময় কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারে ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিভিন্ন বিধিনিষেধ নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। যেখানে পর্যটন উন্নয়ন হবে, সেখানে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ থাকতে হবে। তবে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বড় পর্যটন নগরীগুলোও বহুতল ভবনভিত্তিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। কক্সবাজারেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা হবে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবা খাতের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান আরও বাড়বে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। ২০২৬ সালের মধ্যে এ পরিকল্পনা প্রস্তুত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা। সেই সঙ্গে বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটন এলাকা নির্ধারণ, মেরিন ড্রাইভ ও উপকূলীয় এলাকার বিদ্যমান বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তিতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। পর্যটন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধি এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পর্যটন স্পট হলেও এসবের সুরক্ষা কিংবা সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। আগেকার সরকার বিভিন্ন সময় নানামুখী পদক্ষেপের কথা বললেও কার্যত তা কিছুই হয়নি। সৈকতের দরিয়ানগর, হিমছড়িতে কিছুটা সংস্কার হলেও অন্য কোথাও আর সংস্কার হয়নি। নেই কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থাও। ফলে পর্যটক আকর্ষণ করতে পারছে না কক্সবাজার।

পর্যটকরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারে প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক আসলেও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার কোনো আয়োজন নেই। তাদের মতে, দীর্ঘতম সৈকত ঘিরে গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। এ শিল্পকে নিয়ে ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় নানা পরিকল্পনার কথা বলা হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে সমুদ্র সৈকত রক্ষা করে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হবে কক্সবাজার।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৭৮৬
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে