গোধূলি বেলায় যখন বিষণ্ন মনে অস্তমিত সূর্যের দিকে তাকিয়ে থাকি, তখন মনে হয় মৃত্যু বুঝি এভাবেই খুব ধীরে ধীরে আসে। সূর্য আর আমার মাঝে তখন যেন এক অদ্ভুত নীরবতা খেলা করে। আমরা প্রতিদিন একে অপরের দিকে তাকাই, চোখাচোখি হয় অথচ কেউ কাউকে বলি না সেই অনিবার্য শেষ মুহূর্তটার কথা।
সূর্য বিদায় নিলে আকাশের ক্যানভাসে একা একা জেগে ওঠে রাতের তারা। সারারাত আলো জ্বালিয়ে সে যেন চোরাগলির মুখ আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। মৃত্যুর সেই অমোঘ পথটা রোধ করবে বলে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে–ও পারে না। মৃত্যুর অজেয় শক্তি সব আগল ভেঙে দর্প ভরে প্রশ্ন করে— ‘কে আছো আমার পথ আটকে আমাকে থামিয়ে দিতে পারো!’
প্রকৃতির এই শান্ত নির্জনতা আমাকে ভীষণ টানে। সান্ধ্যকালীন আঁধো আলো কিংবা শুধুই চাঁদের আলোয় ভেসে যাওয়া বাসার ছাদ, খোলা মাঠ, আর বিশেষ করে রাতের সমুদ্র—তার বুক চিরে আসা ঢেউয়ের গর্জন আমাকে এক গভীর মায়ায় জড়িয়ে ধরে। তখন আর কোনো জাগতিক কথা নয়, শুধুই নিজের সাথে নিজে কথা বলতে ভালো লাগে। মনের গভীরে তখন লো ভলিউমে চলা গানের সুর আর কবিতার পঙক্তিমালারা এসে ভিড় জমায়।
কিন্তু যখন হৃদয়ে বিষাদের মেঘ ঘনীভূত হয় তখন এই নিস্তব্ধতাতেই বসে জীবনের অমীমাংসিত অঙ্কগুলোর মুখোমুখি হই। দিনশেষে দেনা–পাওনার হিসাব যখন কিছুতেই মেলে না তখন এক বুক শূন্যতা আর অতৃপ্তি নিয়ে চেনা আলোয় ফিরে আসি। আর একলা মনে প্রশ্ন জাগে মহাকালের বুকে জীবন কেন কেবল একটাই!












