চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেছেন, স্থল থেকে আকাশপথ সর্বত্রই আজ রাজত্ব করছে নারীরা। তবে এখনো আমাদের অনেক দূর যাওয়া বাকি। এদেশে এখনো নারীরা অনিরাপদ। হরহামেশা ঘটছে নির্যাতনের ঘটনা। এদেশে এখনো কন্যাশিশু রাতের বেলায় নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে না। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে দৈনিক আজাদীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। চবি উপাচার্য বলেন, প্রত্যেক নারীকে তার স্বমহিমায় এগিয়ে যেতে হবে। লেখাপড়ায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। জ্ঞানে-দক্ষতায় অবদান রেখে এগিয়ে যেতে হবে। পুরুষের সাথে সমানতালে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নারী শিক্ষার বিকল্প নেই।
চবির প্রথম নারী উপাচার্য বলেন, আজকের নারী দিবসে আমার প্রত্যাশা থাকবে সকল নারীর প্রতি সহিংসতা যাতে দূর হয়। সকল নারী যাতে সুখে থাকে। আমাদের সমাজে অনেকে নারীকে আজও ঘৃণার চোখে দেখে; সেটা যাতে দূর হয়।
তিনি বলেন, আমি আমার বক্তব্যে প্রায়ই বেগম রোকেয়ার কথা বলি। বেগম রোকেয়া আমাদের পথপ্রদর্শক। ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন বাঙালি মুসলমান মেয়েরা নানা নিষেধের গণ্ডিতে আবদ্ধ ছিল, তখন বেগম রোকেয়া এক আলোকবর্তিকা হয়ে মেয়েদের পথ দেখিয়েছেন। উঁচু ঘরের সন্তান হয়েও তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার স্কুলের জন্য ছাত্রী জোগাড় করতেন। অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েও তিনি কখনো নিরাশ হননি। তিনি সর্বদা তার চিন্তা, লেখনী ও কর্মের মাধ্যমে নারী জাগরণের স্বপ্ন দেখতেন। তার সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ আজকে আমাদের দেশে দেখতে পাচ্ছি। আমাদের বেগম রোকেয়ার কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
ড. শিরীণ আখতার সম্প্রতি রোকেয়া পদক পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করি নারীদের নিয়ে কাজ করতে। আমি তাদের কথা ভাবি, তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখি। বেগম রোকেয়া পদক আমার সেই স্বপ্নের পালে নতুন হাওয়া লাগিয়েছে। নারী জাগরণে কাজ করার মাধ্যমেই আমি এই পদকের মূল্য রাখার চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, নারীদের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একটি ডে-কেয়ার চালু করছি। এতে নারী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বাচ্চাদের রেখে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারবে। আজ সেটা উদ্বোধন করা হবে।









