প্রবাসে পোস্টাল ব্যালটের উন্মুক্ত ব্যবহারে উদ্বেগ জানিয়েছে বিএনপি। সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে মার্কার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম রাখার প্রস্তাব তুলেছে দলটি। ভোটার স্লিপে ভোটার নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর ছবি, মার্কা ও প্রতীক ব্যবহারে আচরণবিধির পরিবর্তনও চায় তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। খবর বিডিনিউজের।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া সালাহউদ্দিন পরে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এবং আচরণবিধির কিছু বিষয়ে কথা হয়েছে। আইনি ব্যাখ্যার কিছু পয়েন্টে আর আচরণবিধির কিছু পয়েন্টসহ দুয়েকটা বিষয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এগুলো তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং এগুলো বিবেচনা করবেন বলে আশ্বস্ত করেছে।
বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ ও ইসির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়া উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিংয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হবে। সেজন্য আমরা বলেছি, যেসব নির্বাচনি এলাকায় যে কয়জন প্রার্থী থাকে, তাদেরই তো মার্কা দিয়ে, নাম দিয়ে ব্যালট হয়। সেই একই ব্যালট যেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করি সেটা তারা গ্রহণ করবেন। যেহেতু এটা যৌক্তিক।
সব মার্কা দিয়ে তো পোস্টাল ব্যালট সব আসনে পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পোস্টাল ব্যালেট যেগুলো প্রবাসীদের জন্য পাঠানো হয়েছে। আমরা আগের মতো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছি যে, এখানে ঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। যারা এই পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও পাঠানোর কাজে ছিলেন বা এগুলোর বিষয়ে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তাদেরকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। এখন যে সমস্ত পোস্টাল ব্যালট বিভিন্নভাবে সোশাল মিডিয়াতে ভিডিও আকার আসছে, একেকটা বাসায় দু–তিনশ করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এখনই ভোটিং শুরু হয়ে গেছে, যেটা ২২ জানুয়ারি (প্রতীক বরাদ্দের পরের দিন) হওয়ার কথা এবং কোথাও কোথাও বলছে, একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন পোস্টাল গ্রহণ করছে। এইভাবে অনেক কিছুতে অনিয়ম হয়েছে।
ইতোমধ্যে বাহরাইনে ১৬০টি ব্যালট পেপারের খাম এবং কাতারে একজনের বাসায় বেশ কিছু ব্যালটের খাম বিতরণের ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় এসেছে। এ বিএনপি নেতা বলেন, প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটদানের এঙারসাইজ হওয়ায় এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। তবে যে ভুলভ্রান্তিটা হচ্ছে এখানে, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে হয়ে কিছু কিছু কাজ এখানে হয়েছে এবং সেটা প্রকাশিত হয়েছে, সেটা প্রমাণিত হচ্ছে। এখন আমরা বলেছি, এ বিষয়ে আপনাদেরকে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।












